Print Date & Time : 26 November 2020 Thursday 1:37 am

বিএসটিআইয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হোক

প্রকাশ: October 16, 2020 সময়- 11:05 pm

দেশের মান নিয়ন্ত্রণকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মূল দায়িত্ব হচ্ছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও মানসম্মত পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে যুগোপযোগী ব্যবস্থা নেওয়া। প্রণীত মানের ভিত্তিতে পণ্যসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষণ বা বিশ্লেষণ এবং পণ্যের গুণগত মানের নিশ্চয়তা বিধান করার পাশাপাশি সুষ্ঠুুভাবে দায়িত্ব পালনের মাধমে দেশে শিল্পের বিকাশ, মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন এবং পণ্যমানকে বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রতিযোগিতায় উপযোগী করে তোলা বিএসটিআই’র লক্ষ্য।

জাতীয় মান প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএসটিআই জনসেবামূলক বিভিন্ন কাজ করে। পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকল্পে বাজার আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্য মান যাচাই করা হয়। নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নকল, ভেজাল পণ্য চিহ্নিতকরণ ও নি¤œমানের পণ্য উৎপাদন আমদানি ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

সেবামূলক কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে বিএসটিআই প্রধান অফিস ছাড়া আঞ্চলিক অফিস কাজ করছে যাচ্ছে। জনসাধারণ তথা সেবাগ্রহীতাকে ‘নাগরিক সনদ’ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে পণ্য পরীক্ষণসহ বিবিধ সেবা দেওয়া বিএসটিআই’র দায়িত্ব।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘মান রক্ষায় ব্যর্থ, লাইসেন্স পেতে হয়রানি: চট্টগ্রামে পণ্যের মান আটকে আছে বিএসটিআইয়ের মাসোয়ারায়!’ শীর্ষক প্রতিবেদন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।

বলা হয়েছে, বৈধ প্রতিষ্ঠানের অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে জানলেও নিয়মিত মাসোয়ারা নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না বিএসটিআই। মাঝেমধ্যে মাসোয়ারা আদায়ে অনিয়ম হলে সেই প্রতিষ্ঠানকে সার্ভিল্যান্স টিমের অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় আনা হয়।

আমাদের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট থানা এলাকার মাঠকর্মীর মূল কাজ নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করা। চেইন মেনে সে মাসোয়ারার ভাগ যায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যন্ত। কোনো কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করা না গেলে পণ্য যতই ভালো হোক, মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে না। টাকার পরিমাণের ওপর পণ্যের মান ঠিক করে বিএসটিআই, এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

বিএসটিআইয়ের কাজ পণ্যের ‘মান’ রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া। সংশ্লিষ্ট কর্মী-কর্মকর্তাদের অসাধুতায় সাধারণ মানুষ মানসম্পন্ন পণ্য পাচ্ছে না বলেই প্রতীয়মান। নির্ধারিত ফি দিয়েও যথাসময়ে পণ্যের নমুনা দিয়েও ফল পাচ্ছেন না সেবাগ্রহীতারা। অথচ টাকা দিলে মানহীন পণ্য ও ‘মানসম্মত’ হয়ে হয়ে যাচ্ছে। এমন প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের বৈঠক হয় এবং এদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয় না। এতে মাসোয়ারা আদায়ের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

আমরা মনে করি, বিএসটিআইয়ে শুদ্ধি অভিযান দরকার। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটিকে ঢেলে সাজাতে হবে। যে সংস্থা অন্যের মান নিশ্চিত করবে, সেটিকে অবশ্যই ‘মানসম্পন্ন’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বস্তুত আইনের যথার্থ প্রয়োগ, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা এবং নাগরিকদের সচেতনতায় বিএসটিআই জাতির আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে সক্ষম প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে।