বিএসটিআই’র বিধিমালা পরিপালিত হোক

দেশের মান নিয়ন্ত্রণকারী একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মূল দায়িত্ব হচ্ছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও মানসম্মত পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে যুগোপযোগী ব্যবস্থা নেয়া। প্রণীত মানের ভিত্তিতে পণ্যসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষণ বা বিশ্লেষণ এবং পণ্যের গুণগত মানের নিশ্চয়তা বিধান করার পাশাপাশি সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশে শিল্পের বিকাশ, মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন এবং পণ্যমানকে বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রতিযোগিতায় উপযোগী করে তোলা বিএসটিআই’র লক্ষ্য।

বিএসটিআই জনসেবামূলক বিভিন্ন কাজও করে। পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিতকল্পে বাজার আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যমান যাচাই করা হয়। নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নকল, ভেজাল পণ্য চিহ্নিতকরণ ও নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন আমদানি ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জনসাধারণ তথা সেবাগ্রহীতাকে ‘নাগরিক সনদ’ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে পণ্য পরীক্ষণসহ বিবিধ সেবা দেয়া বিএসটিআই’র দায়িত্ব।

‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’-এর ক্ষমতাবলে ‘পণ্য মোড়কজাতকরণ বিধিমালা, ২০২১’ জারি করেছে সরকার। নতুন বিধি অনুযায়ী পণ্যের মোড়কে হালাল বা শতভাগ খাঁটি লেখা যাবে না। এ আইন লঙ্ঘনে এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন, প্রমাণপত্র, গবেষণা প্রভৃতি না থাকলে পণ্যের মোড়কে শতভাগ পরিশোধিত, রঙ ফর্সাকারী, রোগ নিরাময়কারী, শতভাগ খাঁটি, এক্সপোর্ট কোয়ালিটি প্রভৃতি মুদ্রিত থাকা যাবে না।

বর্তমানে সব ধরনের পণ্যে মোড়কে কমবেশি অতিরঞ্জিত, ভুল তথ্য মুদ্রিত রয়েছে। এতে ভোক্তাসাধারণ প্রতারিত হচ্ছে নানাভাবে। তাই পণ্য মোড়কজাতকরণ বিধি অতি প্রয়োজন ছিল। নতুন বিধিমালা যথাযথ পরিপালত হলে পণ্য উৎপাদনকারী, পরিবেশক ভোক্তা সাধারণকে আকৃষ্ট করতে ভুল তথ্য-ছবি ব্যবহারে নিবৃত্ত হবে।

ভোক্তাদের আকৃষ্ট করতে পণ্য বাজারজাতকারীরা নানা কৌশল নেন। নতুন বিধি জারির উদ্দেশ্য হলো পণ্যের মোড়কের মুদ্রিত তথ্যের কারণে গ্রাহক যাতে বিভ্রান্ত না হন, ক্ষতিগ্রস্ত না হন। কিন্তু বিধি জারিতে কার্যক্রম সীমিত রাখলে জনসাধারণ সুফল পাবে না। আমাদের দেশে স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে আইন মান্য করার মানসিকতা লক্ষ করা যায় না। উৎপাদন ও বিপণনের কোনো পর্যায়ে যাতে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড সংঘটিত না হয়, সেটিও নজরদারি করতে হবে। নিয়মিত মাসোয়ারা নিয়ে কোনো অনিয়ম চাপা দিয়ে থাকেন নিয়ন্ত্রক সংস্থারই একশ্রেণির কর্মকর্তা। বিএসটিআইয়ের মাঠকর্মী থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায়িত্বপরায়ণ না হলে নতুন আইনটি উপরি আয়ের উৎস হতে পারে।

রাষ্ট্রীয় সংস্থার নজরদারিকে ফাঁকি দিতে তৎপর অসাধু ব্যবসায়ীরা। বিএসটিআই’র লোগো অপব্যবহার করে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণারও হয় অনেক সময়। সে ক্ষেত্রে মোড়ক নিয়ে প্রতারণা হবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তাই ভোক্তাদের সচেতন করতে গণমাধ্যমে প্রচারের পাশাপাশি বাজারজাত করা পণ্যের মোড়ক যাচাইয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ ভোক্তা-অধিকার নিয়ে কাজ করা অন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমন্বিত উদ্যোগ নিলে বিএসটিআই’র বিধিমালা পরিপালিত হবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৩৯  জন  

সর্বশেষ..