প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বিএসসিসিএলের মুনাফার নেপথ্যে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্লস

পলাশ শরিফ: আয়-মুনাফায় প্রবৃদ্ধির জেরে আলোচনায় টেলিযোগাযোগ খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লস কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ৩৯ শতাংশের বেশি। আর কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে ৭০০ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে বিএসসিসিএল। গত জুলাইয়ে শুরু হওয়া চলতি আর্থিক বছরেও কোম্পানিটির মুনাফার ধারা অব্যাহত রয়

গত কয়েক বছরে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া কোম্পানিটির সাম্প্রতিক উত্থানে ভূমিকা রাখছে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্লস। নতুন ওই কেব্লসের আয়ের ওপর ভর করেই আয়-মুনাফায় উল্লম্ফন হয়েছে। চলতি ২০১৯-২০ আর্থিক বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় ৩২ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ৪১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আয় করেছে বিএসসিসিএল। এর জেরে কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায় ১২৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৭ কোটি ১৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি পঞ্জিকা বছরের জুন পর্যন্ত আর্থিক বছর শেষে বিএসসিসিএলের মোট আয় প্রায় ১৪৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। যদিও বিদায়ী আর্থিক বছরে আয়ের পাঁচটি খাতের মধ্যে দুটির আয় কমেছে, আরও দুই খাতে আয়ের প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ, তার পরও কোম্পানিটির আয় এর আগের আর্থিক বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশের বেশি বা টাকার অঙ্কে প্রায় ৫২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বেড়েছে। আয়ের বড় প্রবৃদ্ধির নেপথ্যের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্লস (এসএমডব্লিউ-৫)।

২০১৭ সালে চালু হওয়া এসএমডব্লিউ-৫ কেব্লস ভাড়ার অর্থেই আয়-মুনাফায় এগিয়েছে বিএসসিসিএল। ওই আর্থিক বছরে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্লস ভাড়া থেকে কোম্পানিটির প্রায় ৭৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা আয় হয়েছে। এর আগের বছরও ওই আয় ছিল প্রায় ২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ওই কেব্লসের ভাড়া বাবদ আয় ২২২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিএসসিসিএলের সংকট কাটিয়ে ওঠার পথে এসএমডব্লিউ-৫ অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।

আয়ে বড় প্রবৃদ্ধির কল্যাণের কারণে সর্বশেষ সমাপ্ত আর্থিক বছরে বিএসসিসিএলের পরিচালন মুনাফা ৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা থেকে ১১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৮৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আর আর্থিক বছর শেষে কোম্পানিটি প্রায় ৫৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে, যা এর আগের আর্থিক বছরের তুলনায় প্রায় ৫১ কোটি টাকা বা ৭০০ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। মুনাফায় বড় চমকের মধ্য দিয়ে গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুনাফার রেকর্ড গড়েছে বিএসসিসিএল।

বিএসসিসিএলের কোম্পানি সচিব (সিএস) আবদুস সালাম খান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘২০১৭ সালে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্লস স্থাপনের পর এর সক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়েছে। আমরা এখন দেশের বাইরেও ব্যান্ডউইড্থ রফতানি করছি। প্রতিবেশী আরও কিছু দেশের সঙ্গে ব্যান্ডউইড্থ রফতানি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেব্লস চালুর পর থেকে বিএসসিসিএলের আয় বাড়ছে। এতে সর্বশেষ আর্থিক বছরেও মুনাফা ও লভ্যাংশ প্রদান বেড়েছে।’

এর আগে ২০১৪ সালে প্রায় ৩৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল কোম্পানিটি। বিদেশি ঋণের সুদ আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরের চার বছরে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যায় কোম্পানিটি। সংকট কাটিয়ে উঠতেই সক্ষমতা বাড়ানো ও ব্যান্ডউইড্থ রফতানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে আয়-মুনাফায় বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

এদিকে আয়-মুনাফায় বড় পরিবর্তনের কারণে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে বিএসসিসিএল। এটিও গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগের পাঁচ বছরে গড়ে ৯ দশমিক চার শতাংশ হারে নগদ ও বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। এর জেরে বিএসসিসিএলের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাবমেরিন কেব্লস সংযোগ স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণকারী রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিএসসিসিএল। ২০০৮ সালে এটি পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এক হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে বিএসসিসিএলের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট ১৬ কোটি ৪৯ লাখ পাঁচ হাজার ৫১০ শেয়ারের মধ্যে সরকারের কাছে ৭৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ১১ দশমিক ২০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে তিন দশমিক শূন্য তিন শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..