প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিওতে লভ্যাংশ পাঠিয়েছে কাসেম ড্রাইসেলস ও ইনফরমেশন টেকনোলজি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওয়ার্স (বিও) হিসাবে বোনাস লভ্যাংশ পাঠিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কাসেম ড্রাইসেলস লিমিটেড ও ইনফরমেশন টেকনোলজি কনসালট্যান্টস লিমিটেড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ গত ৭ ডিসেম্বর পাঠিয়েছে কোম্পানি দুটি।

উল্লেখ্য, প্রকৌশল খাতের কোম্পানি কাসেম ড্রাইসেলস লিমিটেড ১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য পাঁচ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাসসহ মোট ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে দুই টাকা তিন পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ৪৭ টাকা ৪৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৫২ পয়সা ও ৫০ টাকা এক পয়সা।

২০১৫ সালের সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ কম। ২০১৫ সালের সমাপ্ত বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছিল এক টাকা ৫২ পয়সা এবং এনএভি ছিল ৫০ টাকা এক পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল এক টাকা ৫৫ পয়সা ও ৫৩ টাকা ৮৫ পয়সা। ওই বছর কোম্পানিটি কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৪০ লাখ টাকা বেশি।

সবশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাতে ৪৯ দশমিক ১১ শতাংশ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ৩০ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। ৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৪৪ কোটি ৫২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১২৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। জুন ক্লোজিং কোম্পানিটির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে তিন কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ইপিএস হয়েছিল ৮৩ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময় ছিল ৬৯ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে ১৪ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত এনএভি ছিল ৪৮ টাকা ৩০ পয়সা, যা  আগের বছর একই সময় ছিল ৫০ টাকা ৬৮ পয়সা।

গতকাল কোম্পানির শেয়ারদর তিন দশমিক ৮৪ শতাংশ বা তিন টাকা ৭০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ১০০ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৯৯ টাকা ৭০ পয়সা। দিনজুড়ে শেয়ারদর ৯৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে ১০২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। ওইদিন কোম্পানির ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫টি শেয়ার মোট তিন হাজার ৭২৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২০ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, আইটি খাতের কোম্পানি ইনফরমেশন টেকনোলজি কনসালট্যান্টস লিমিটেড চলতি বছর তালিকাভুক্ত হয়ে ‘এন’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ সময় কোম্পানির ইপিএস হয়েছে ৯৩ পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৩৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৪২ পয়সা ও ১৮ টাকা ৫৮ পয়সা।

২০১৫ সালে কোম্পানির ইপিএস ছিল ৪২ পয়সা এবং এনএভি ১৮ টাকা ৫৮ পয়সা ছিল। আগের বছরের একই সময় যার পরিমাণ ছিল এক টাকা চার পয়সা ও ১৮ টাকা ২৮ পয়সা। ওই বছর কোম্পানিটি কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল তিন কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল সাত কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার টাকা।

গতকাল কোম্পানির শেয়ারদর দুই দশমিক ৫৯ শতাংশ বা এক টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ৫১ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৫১ টাকা ৪০ পয়সা। দিনজুড়ে শেয়ার দর ৪৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৫১ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। ওইদিন কোম্পানির ১২ লাখ ৫৬ হাজার ৬৮১টি শেয়ার মোট তিন হাজার ৬৯৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ছয় কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।

সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাতে ৫৫ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১০৭ দশমিক শূন্য আট শতাংশ। ২০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। কোম্পানির ১০ কোটি ৫০ হাজার শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৫১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ২২ দশমিক ৩২ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ২৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।