প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিকল্প আমদানি বাজারও খুঁজে দেখা হোক

বিদ্যুতের দুই কোটি স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার সরবরাহে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চায়না রেলওয়ে ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ যে দাম প্রস্তাব করেছে, সেটা অনেক বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনটি মনে হওয়ার সংগত কারণ রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের যেসব মিটার সরবরাহ করছে, সেগুলো কেনা হয়েছে এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দামে। চীনা কোম্পানিটি এত বেশি দাম প্রস্তাব কেন করেছে, স্বভাবতই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কোনো প্রযুক্তি অপেক্ষাকৃত আধুনিক ও মানের দিক থেকে উন্নততর হলে তার দাম বেশি হয় বৈকি। চীনা কোম্পানিটি যে ধরনের মিটার সরবরাহের প্রস্তাব করেছে, সেগুলো এমন কি না আমরা চাইব তা খতিয়ে দেখবেন বিশেষজ্ঞরা। একই মানের প্রযুক্তি বা পণ্য বিশ্বের অন্যান্য দেশে কী দরে বিক্রি হচ্ছে, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া এখন আর কঠিন নয়। প্রস্তাব চ‚ড়ান্তের আগে এ কাজগুলো করতে হবে স্বভাবতই।

বস্তুত চীনা কোম্পানিটি প্রস্তাবিত প্রকল্পটির পণ্য সরবরাহ করতে চেয়েছে জিটুজি তথা বাণিজ্যিক ঋণের ভিত্তিতে। মনে রাখা দরকার, সরবরাহকারীর ঋণে ক্রয় করা পণ্যের দাম হয় অপেক্ষাকৃত বেশি। চীনা কোম্পানিটি এক্ষেত্রে সে কৌশল অবলম্বন করেছে কি না, আমরা জানি না। সেক্ষেত্রে বিকল্প আমদানি বাজারও অন্বেষণ করা যেতে পারে। এও মনে রাখতে হবে, কোম্পানিটি যে দাম প্রস্তাব করেছে, তার এক-তৃতীয়াংশ মূল্যেও দুই কোটি মিটার কিনতে হলে গুনতে হবে বিপুল অঙ্কের টাকা। একসঙ্গে এত টাকা পরিশোধের সামর্থ্য আমাদের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর আছে কি না, সে বিবেচনাও এখানে সংগত। স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার কেনায় আমাদের যদি বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়, সেক্ষেত্রে বেছে নিতে হবে উত্তম বিকল্প। সেটি বের করার প্রতিই এখন জোর দিতে হবে নীতিনির্ধারকদের।

বাস্তবতা হলো, যেসব প্রি-পেইড মিটার কেনার কথা হচ্ছেÑচ‚ড়ান্ত পর্যায়ে এর দাম পরিশোধ করতে হবে গ্রাহককে। এদিকে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হচ্ছে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে। এ অবস্থায় একই সঙ্গে যদি প্রতি মাসে চড়া দামে কেনা মিটারের মূল্য পরিশোধ করতে হয়, তাহলে জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়বে সন্দেহ নেই। উদ্ভ‚ত পরিস্থিতি বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি বা মূল্যস্ফীতিতে ভ‚মিকা রাখবে কি না, আমরা সেসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে বলব।

সন্দেহ নেই, বিদ্যুতের অপচয়, চুরি রোধসহ বিভিন্ন কারণে প্রি-পেইড মিটার ব্যবস্থায় যেতেই হবে। যে প্রক্রিয়ায়ই এ ব্যবস্থার দিকে যাওয়া হোক না কেন, তাতে গ্রাহকের বিষয়টিই রাখতে হবে বিবেচনায়। দেখা যাচ্ছে, প্রি-পেইড মিটারের বিরুদ্ধে দেশের কোথাও কোথাও আন্দোলনে নেমেছেন গ্রাহক। মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি যদি গ্রাহকবান্ধব না হয়, এর ব্যবহারের যত আর্থিক সুফলই থাকুক মানুষ সেটা গ্রহণ করতে চাইবে না। চীন থেকে যেসব মিটার আমদানির কথা, সেগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা থাকবে কি না, তাও যাচাই করতে হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে দেশের একশ্রেণির মানুষের মধ্যে অদক্ষতা স্পষ্ট। এজন্য আর্থিক মূল্যও গুনতে হয় তাদের। নীতিনির্ধারকের অদূরদর্শিতা বা দরকষাকষির অদক্ষতায় তাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়–কÑআমরা সেটা চাইব না। চীনা প্রযুক্তিপণ্যের ব্যাপারে কিছু নেতিবাচক কথাবার্তা চালু আছে সমাজে। বিকল্প বাজারে ওই কোম্পানির প্রস্তাবিত দামের চেয়ে কমে যদি আরও উন্নতমানের পণ্য পাওয়া যায়, আমরা সেখানেইবা যাব না কেন? মনে রাখা দরকার, অনেক দাম দিয়ে কেনা এসব মিটার গ্রাহক ব্যবহার করতে চাইবেন দীর্ঘদিন ধরে। আমদানি করা মিটারগুলোর কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক জীবনকাল যাতে সেরকম হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।