মার্কেটওয়াচ

বিক্রি চাপ বাড়াতে লেনদেন কমছে

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে    শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

নভেম্বরে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকার দুটি কারণ ছিল। প্রথমত, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে কিছু ভালো তথ্য ছিল। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক খাত বাদে অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রান্তিক ইপিএস আশানুরূপ ছিল। তারপরও বাজারে তেমন বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণ একটু বেড়েছে। আর্থিক বছরের শেষের দিকে এসে অনেকেই মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কিছুটা প্রফিট সংগ্রহ করছেন, যে কারণে বাজারে বিক্রয় চাপ বেড়েছে এবং লেনদেন কমছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন আইসিএবির কাউন্সিল মেম্বার ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হোসেন, এফসিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, এফসিএ।

মাহমুদ হোসেন বলেন, গত মাসের তুলনায় পুঁজিবাজার বর্তমানে কিছুটা ধীর গতিতে আছে। পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক চরিত্রই হচ্ছে, কখনও বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকবে আবার কখনও দর সংশোধন হবে। তাই বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে আশঙ্কার কিছু নেই। নভেম্বরে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকার দুটি মূল কারণ ছিল। প্রথমত, ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে বাজারে কিছু ভালো তথ্য ছিল। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক খাত বাদে অনেক প্রতিষ্ঠানের যে প্রান্তিক ইপিএস এসেছিল তা আশানুরূপ ছিল। তারপরও বাজারে তেমন বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। যদিও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণ একটু বেড়েছে, কিন্তু তা বাজারের ভালোর জন্যই করা হচ্ছে। কারণ বাজারে অনিয়ম হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। অর্থাৎ সবদিক বিবেচনায় বর্তমান বাজারের অবস্থা ভালো বলেই মনে করি। তবে আমাদের চার লাখ কোটি টাকার মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের সঙ্গে তুলনা করলে সূচক আরও বাড়া দরকার। ডিভিডেন্ডের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের বাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অনেকেই ডিভিডেন্ড ইল্ড দিয়ে সংসার চালান, কিন্তু অধিকাংশ কোম্পানি তাদের কথা চিন্তা করে ডিভিডেন্ড দেয় না। তারা ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে দু-তিনটি কারণে একটি ট্যাক্সের কারণে, অন্যটি হচ্ছে ডিভিডেন্ড না দিলে ক্যাটাগরি পরিবর্তন হয়ে যায়। ফলে এদিকে সবার একটু নজর দেওয়া দরকার।

মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, বেশ কিছুদিন আগে সূচক ছয় হাজার অতিক্রম করেছে এবং তা টিকে আছে। এটি বাজারের একটি ভালো দিক। পরিচালকরা শেয়ার কেনায় কিছুদিন আগে ব্যাংকের দর বেশ বেড়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে আবার ব্যাংক খাত ধীর গতির হয়। ফলে বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর পতনে সূচকে এর প্রতিফলন ঘটে। তবে ভালো দিক হচ্ছে, ব্যাংক খাত যখন কমছে তখন অন্যান্য কিছু খাতের দর বাড়ছে, যা হওয়া উচিত ছিল যখন ব্যাংক খাত ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। আর এ আচরণ বাজারের জন্য ভালো বলে মনে করি। তাছাড়া নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বাজার বাড়ার কথা, কিন্তু অনেকদিন ব্যাংক খাত বাড়ার কারণে এখন কিছুটা দর সংশোধন হচ্ছে এবং এটিও স্বাভাবিক। কারণ বাজার বাড়লে অনেকেই মুনাফা সংগ্রহ করেন, ফলে বাজারে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া এখন আর্থিক বছর শেষে অনেকেই মুনাফা তুলে নিতে চাচ্ছেন। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কিছুটা প্রফিট সংগ্রহ করছেন। ফলে বিক্রয় চাপ বাড়ছে এবং বাজার কমছে।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..