বিশ্ব সংবাদ

বিক্রি হয়ে যাচ্ছে কোকাকোলা অ্যামাটিল

শেয়ার বিজ ডেস্ক : কোমল পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোকাকোলার অস্ট্রেলিয়ার অংশীদার কোকাকোলা অ্যামাটিল বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও নিউজিল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, ফিজি ও সামোয়াতে এ কোম্পানি কোকাকোলার বিভিন্ন পণ্য বোতলজাত ও বিপণন করে থাকে। এর আগে কোকাকোলা তাদের প্রায় ২০০ ব্র্যান্ড বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা কোম্পানিটির পোর্টফোলিওর প্রায় অর্ধেক। খবর: রয়টার্স ও এপি।

কোম্পানির বিক্রি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত তা অনেক দূর এগিয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কোকাকোলা অ্যামাটিল অধিগ্রহণ করতে চলেছে কোকাকোলা ইউরোপিয়ান পার্টনার্স। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণই তাদের এ মুহূর্তে মূল লক্ষ্য।

ব্যবসার বিক্রি নিয়ে কোকাকোলা অ্যামাটিল ও কোকাকোলা ইউরোপিয়ান পার্টনার্সের মধ্যে কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছে গেছে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, কোকাকোলা ইউরোপিয়ান পার্টনার্স একটি ব্রিটিশ বহুজাতিক সংস্থা। কোকাকোলার বিভিন্ন পণ্য বোতলজাত, বিপণন ও সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে তারা।

হাতবদলের বিষয়ে কোকাকোলা অ্যামাটিলের সঙ্গে কোকাকোলা ইউরোপিয়ান অংশীদারের চুক্তির বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চুক্তির কাঠামো নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার পরেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

কত অর্থের বিনিময়ে এ বিষয়ে চুক্তি হবে, সে বিষয়ে পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দুই কোম্পানির কোনো কর্মকর্তাই মুখ খুলতে চাননি। তবে তাদের দেওয়া ইঙ্গিত থেকে অনুমান করা হচ্ছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কোনো কোম্পানির হাতবদল নিয়ে যত অর্থের চুক্তি হয়েছে, কোকাকোলা অ্যামাটিলের হাতবদল চুক্তি সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।

যদিও এ সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কোকাকোলা অ্যামাটিল বা কোকাকোলা ইউরোপিয়ান পার্টনার্স কোনো মন্তব্য করেনি। উত্তর সিডনিভিত্তিক কোকাকোলা অ্যামাটিলের বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ব্রিটেনভিত্তিক কোকাকোলা ইউরোপিয়ান পার্টনার্সের বাজারমূল্য ১৭  দশমিক সাত বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

এদিকে করোনা মহামারিকালে ব্যবসায় মন্দা চলায় নিজেদের প্রায় ২০০টি ব্র্যান্ড বন্ধ করে দিচ্ছে পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোকাকোলা। এটি প্রতিষ্ঠানটির মোট ব্র্যান্ডের প্রায় অর্থেক। গত বৃহস্পতিবার কোম্পানির সিইও জেমস কুইন্সি জানান, পণ্য বিশ্লেষণের সময় গবেষকরা যাচাই-বাছাই করে দেখেছেন কোন পণ্য কোকাকোলার পোর্টফোলিওতে থাকবে। এই বছরের তৃতীয় চর্তুথাংশে কোকাকোলার পানি ও স্পোর্টসজাতীয় পানীয়গুলোর বিক্রি ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।কোকাকোলা বলছে, মহামারীকালে রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ থাকায় কোকাকোলা কঠিন সময় পার করছে। এই বছরের তৃতীয় চতুর্থাংশে কোকাকোলার মোট আয় ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ঠিক কোন ব্র্যান্ডগুলো বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেনি কোকাকোলা। তবে ‘হাইড্রেশন’ ক্যাটেগরির ব্র্যান্ডগুলো বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেন কোম্পানির সিইও, যার মধ্যে থাকবে ডাসানি, পাওয়ারএইড এবং স্মার্ট ওয়াটারের মতো পণ্যগুলো। কোম্পানিটি গত জুন থেকে বলে আসছে, ট্যাব, জিকে ও ওডালার মতোর কোমল পানীয় ব্র্যান্ডগুলো বন্ধ করে দেবে তারা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..