প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিক্রেতা সংকটে ছয় কোম্পানির শেয়ার হল্টেড

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ছয় কোম্পানির শেয়ারে বিক্রেতা সংকট দেখা দেয়। গতকাল মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর দিকেই প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার এ কারণে হল্টেড হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

যেসব কোম্পানির শেয়ার বিক্রেতা সংকটে হল্টেড হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্রাইম  টেক্সটাইল স্পিনিং মিলস লিমিটেড, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, দুলামিয়া কটন মিলস লিমিটেড, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড ও অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে। শেয়ারটিতে সর্বশেষ ২২ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়। কোম্পানিটির ভিত্তিমূল্য ছিল ২০ টাকা ১০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকারের সীমা ছিল সর্বনি¤œ ১৮ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২২ টাকা ১০ পয়সা।

১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ৪৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ পরিচালকদের কাছে, সরকারের কাছে ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১০ শতাংশ এবং বাকি ৩৯ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

এদিকে প্রাইম টেক্সটাইলের স্পিনিং মিলস লিমিটেডের শেয়ারদর ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে। তখন কোম্পানির শেয়ার ২৫ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়। কোম্পানিটির ভিত্তিমূল্য ছিল ২৩ টাকা ৪০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকারের সীমা ছিল সর্বনিম্ন ২১ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা ৭০ পয়সা। কোম্পানির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ২৫ টাকা ২০ পয়সা।

কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। ১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে ৫০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ  এবং বাকি ৩৩ দশমিক ৫৩  শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

অন্যদিকে সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারদর ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে হল্টেড হয়েছে। এদিন কোম্পানিটির ভিত্তিমূল্য ছিল ২৩ টাকা ৪০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকারের সীমা ছিল সর্বনিন্ম ২১ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা ৭০ পয়সা। কোম্পানির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ২৫ টাকা ৭০ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়, যার অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৫৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে ৩৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫০ দশমিক ৮৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এছাড়া দুলামিয়া কটন মিলস লিমিটেডের শেয়ার ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের কাছাকাছি গিয়ে হল্টেড হয়েছে। এদিন কোম্পানির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ১০ টাকা। কোম্পানিটির সার্কিট ব্রেকারের সীমা ছিল সর্বনি¤œ আট টাকা ৩০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা ১০ পয়সা।  কোম্পানিটির শেয়ার দর গত ২১ ডিসেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ফেসভ্যালুর ওপরে উঠে আসে।

কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন সাত কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে ২১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

বস্ত্র খাতের প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেডের শেয়ারদর ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে  হল্টেড হয়েছে। কোম্পানিটির ভিত্তিমূল্য ছিল ২০ টাকা ৬০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকারের সীমা ছিল সর্বনি¤œ ১৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২২ টাকা ৬০ পয়সা। এদিন কোম্পানির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ২২ টাকা ৬০ পয়সা।

কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। কোম্পানিটি ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে ৬৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৭ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

খাতটির অন্য কোম্পানি অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারদর ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে হল্ট্রেড হয়েছে। কোম্পানিটির ভিত্তিমূল্য ছিল ১৩ টাকা ৫০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকারের সীমা ছিল সর্বনি¤œ ১২ টাকা ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৪ টাকা ৮০ পয়সা। কোম্পানিটির সর্বশেষ শেয়ার দর ছিল ১৪ টাকা ৮০ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারদর কয়েক দিন আগেও ফেসভ্যালুর নিচে অবস্থান করেছে। কিছুদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে দর বেড়ে কোম্পানির শেয়ারদর ফেসভ্যালুর ওপরে উঠে আসে।

কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৫৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ১৯৯৬ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে ৪১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ১০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।