খবর

বিক্ষোভের মধ্যে গুলিস্তানে হকার উচ্ছেদ, স্মারকলিপি পেশ

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দিনের বেলায় ফুটপাতে হকার বসা বন্ধ করতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর গুলিস্তান ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকার অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ডিসিসি এলাকার গুলিস্তান, মতিঝিল ও রমনা এলাকার হকারদের ব্যবসা করার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে করপোরেশনের পক্ষ থেকে। সাপ্তাহিক কর্মদিবসের দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ফুটপাতে দোকান বসাতে পারবেন হকাররা। এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল থেকে দোকান বসাতে পারবেন তারা। কিন্তু এ নিয়ম মানতে রাজি হচ্ছেন না হকাররা। সেই সঙ্গে পুনর্বাসন না করে হকার উচ্ছেদ করা যাবে না বলেও আন্দোলন করছেন হকার নেতারা। খবর ফোকাস বাংলা।

হকার উচ্ছেদ প্রতিবাদে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হাসেম কবীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। সোমবার দুপুরে নগর ভবনে ১০ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেয় প্রতিনিধি দলটি। এদিকে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, সিটি করপোরেশন তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে। যে কোনো উপায়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা হবে। অন্যদিকে রোববার রাজধানীর গুলিস্তান ও তার আশপাশের সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদ ও লুটপাটের প্রতিবাদে গতকাল বেলা ১১টায় নগর ভবন ঘেরাও এবং হকারদের অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বেশ কয়েকটি হকার ও শ্রমিক সংগঠন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সমর্থিত হকার্স সংগঠন বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন, বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশন ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সোমবার বেলা ১১টা থেকে সিটি করপোরেশনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযান চলার সময় বিক্ষুব্ধ হকাররা মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া যুবলীগের একটি কার্যালয় ভাঙতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। অভিযানের সময় গুলিস্তান ও আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। এ সময় গুলিস্তান মার্কেট, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার, ঢাকা ট্রেড সেন্টার, বঙ্গবন্ধু পাতাল মার্কেট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অবশ্য আগের দিনের উচ্ছেদের পর মেয়র সাঈদ খোকন অভিযান অব?্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় ফুটপাতের মালামাল আগেই সরিয়ে নিয়ে যান বেশিরভাগ দোকানদার। অভিযানের সময় ফুটপাতে থাকা হকারদের মালামাল রাখার চৌকি ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়া ফুটপাতে গড়ে তোলা কয়েকটি পাকা স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেয় সিটি করপোরেশনের বুলডোজার।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযানের সময় উপস্থিত ছিল সাত প্লাটুন পুলিশ। এছাড়া সিটি করপোরেশনের বুলডোজার, পে-লোডারসহ ১৫টি বাহন উচ্ছেদ কার্যক্রমে অংশ নেয়।

অভিযান চলাকালে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ হকার গুলিস্তান সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..