বিশ্ব সংবাদ

বিক্ষোভ-ধর্মঘটে ফ্রান্স অচল হয়ে পড়ার শঙ্কা

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর পেনশন ব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনার প্রতিবাদে গত শুক্রবার ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মঘটে স্থানীয় সময় শনিবারও গোটা দেশ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ধর্মঘটের ডাক দেওয়া জাতীয় শ্রমিক ইউনিয়ন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এ অস্থিরতা আগামী সপ্তাহে গড়াতে পারে। এর আগে বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের ওপর ধর্মঘটের প্রথম দিনে পুলিশ অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর: রয়টার্স ও আনাদুলু এজেন্সি।

নতুন করে শুরু হওয়া এ ধর্মঘট ১৯৯৫ সালের ধর্মঘটের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। ওই সময় বিক্ষোভ-ধর্মঘটে ফ্রান্স তিন সপ্তাহ অচল হয়ে পড়েছিল। বৃহস্পতিবার ব্যাপক বিক্ষোভের পর আবার মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় ধারাবাহিক বিক্ষোভ-ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইউনিয়নগুলো। অনেকেই মনে করেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে ইয়েলো ভেস্টদের শনিবারের বিক্ষোভ ম্যাখোঁর জন্য এক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এদোয়ার্দ ফিলিপ্পে বলেছেন, সরকার তাদের সংস্কার পরিকল্পনা থেকে সরে যাবে না।

এদিকে বিক্ষোভে পুলিশের বল প্রয়োগের বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কিন্তু এ সংস্থাটিই সাধারণত বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে নিজেদের উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি সংকট সমাধানে দ্রুত এগিয়ে আসার চেষ্টা করে। নাকের ডগায় ফ্রান্সে পুলিশের বল প্রয়োগের বিষয়ে নীরব থাকা সংস্থাটিকে ফেলে দিয়েছে সমালোচনার মুখে।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফ্রান্সে পুলিশের এ অতিরিক্ত বল প্রয়োগের নিন্দা জানাতে অনিচ্ছুক ইইউ। এটি সম্পূর্ণ পক্ষপাতমূলক আচরণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ধর্মঘটে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে পুলিশ। এদিন কাঁদানে গ্যাসের শেলের আঘাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হন সাংবাদিক মোস্তফা ইয়ালসিন।

এ বিষয়ে উরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের মুখপাত্র এরিক মামের বলেন, কমিশন মানুষের আন্দোলনের অধিকার এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের অধিকারের বিষয়ে সম্মান করে। একই সঙ্গে পুলিশের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে, যেন শান্তিপূর্ণভাবে মানুষ আন্দোলন করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি নিয়ে আমাদের মন্তব্য করার কিছু নেই।

ফ্রান্সে বর্তমানে প্রায় ৪২ ধরনের পেনশন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এগুলো বিলোপ করে সংস্কারের মাধ্যমে পেনশনকে একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..