ফিচার

বিজনেস আইডিয়া:কবুতর পালন

শিপন আহমেদ: নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে কী দিয়ে শুরু করবেন। এজন্য দরকার অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন ব্যবসা। এ ধরনের উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে শেয়ার বিজের সাপ্তাহিক আয়োজন

গৃহপালিত পশুপাখির মধ্যে কবতুর অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাংলাদেশের জলবায়ু কবুতর পালনের জন্য উপযোগী। বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেতও কবুতর পালনে সহায়ক।

কবুতরকে সহজে পোষ মানানো যায় বলে গ্রাম-গঞ্জ, এমনকি শহরের বাসা-বাড়িতে অনেকে কবুতর পালন করেন। বাড়ির যে কোনো স্থানে পালন করা যায় কবুতর।

কম পরিশ্রম ও অল্প খরচে কবুতর পালন করে পরিবারের আমিষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। কবুতরের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু। অন্য পাখির মাংসের তুলনায় এতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি। সুতরাং পরিবারে পুষ্টি সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে কবুতর পালন করতে পারেন।

কবুতরের জাত

বর্তমানে প্রায় ২০০ জাতের কবুতর রয়েছে। মাংস উৎপাদনের জন্য উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কিং সাদা-কালো, সিলভার, হলুদ ও নীল, কারনিউ, ডাউকা, হোয়াইট কিং, গোলা, কাউরা, লক্ষণ প্রভৃতি। সৌখিন লোকেরা খেলাধুলা বা আমোদ-ফুর্তির জন্য ময়ূরপঙ্খী, সিরাজী, লহোরী, ফ্যানটেইল, মুকি, জেকোভিন, গিরিবাজ, লোটন, রেসিং হামার, হর্সম্যান, বার্মিহাম রোলার, কিউমুলেট প্রভৃতি জাতের কবুতর পুষে থাকেন। আমাদের দেশে জনপ্রিয় কবুতরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জালালি, বাংলা, গোবিন্দ, বোম্বাই প্রভৃতি।

সুবিধা

অল্প পুঁজি, প্রতিপালন অত্যন্ত সহজ ও সংক্ষিপ্ত প্রজননকাল

অল্প জায়গায় ও অল্প খাদ্যে পালন করা যায়

মাংস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। সহজপাচ্য

মল জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করা যায়

একজোড়া কবুতর থেকে মাসে গড়ে দুটি বাচ্চা পাওয়া যায়। প্রায় চার মাসের মধ্যে তা খাওয়ার উপযোগী হয়

কবুতরের খাবারের খরচ তুলনামূলক কম

থাকার ঘর তৈরি করতে কম খরচ লাগে

কবুতরের রোগবালাই কম হয়

রোগ ও প্রতিকার

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রোগ ও প্রতিকার:

বসন্ত- ত্বকের পালকবিহীন জায়গায় ফোস্কা হয়, গলার ভেতর ছোট ক্ষত হয়। চার সপ্তাহ বয়সে বুকে বা পায়ে পিজিয়ন পকস টিকা দিতে হয়।

কলেরা- শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অরুচি, ওজন হ্রাস, শ্বাসকষ্ট, সবুজ ও হলুদ ডায়রিয়া। ট্যারামাইসিন ক্যাপসুল বা কসুমিকস প্লাস ওষুধ খাওয়াতে হবে।

রক্ত আমাশয়- দুর্বলতা, শীর্ণতা, ফ্যাকাশে ভাব, ক্ষুধামন্দা, রক্ত মিশ্রিত মলত্যাগ। ইএসবি-৩ বা এমবাজিন বা এলড্রন পানিতে মিশিয়ে তিন দিন খাওয়াতে হবে।

কৃমি- ক্ষুধা ও পিপাসা বৃদ্ধি, দুর্বলতা, রক্তস্বল্পতা, ডায়রিয়া, ওজন হ্রাস প্রভৃতি। এডিপার বা ইউভিলন কিংবা কুপেইন, মেবেন ট্যাবলেট প্রতি তিন মাস পরপর খাওয়াতে হবে।

বাসস্থান

নির্দিষ্ট কোনো জায়গার প্রয়োজন নেই। বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা জানালার কার্নিশে কবুতর পালন করা যায়

হালকা কাঠ, পাতলা টিন, বাঁশ বা প্যাকিং কাঠ দিয়ে কবুতরের ঘর বানাতে পারেন

কবুতরের থাকার ঘরটি এমনভাবে উঁচু করে তৈরি করতে হবে, যেন ক্ষতিকর প্রাণী ও পাখিদের নাগালের বাইরে থাকে

ঘরে প্রচুর আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। বৃষ্টির পানি যেন ঢুকতে না পারে, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে

কবুতরের ঘর পাশাপাশি বা কয়েক তলাবিশিষ্ট হতে পারে

খাবার ও পানির পাত্র কবুতরের ঘরের সামনে রাখতে হবে

কবুতরের ঘর পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে

মাসে একবার কিংবা দুবার করে ঘরের বিষ্ঠা পরিষ্কার করতে হবে

খাদ্য

একটি কবুতর দিনে গড়ে ৩৫ থেকে ৬০ গ্রাম দানাদার খাবার খেয়ে থাকে। সাধারণত বিভিন্ন ধরনের শস্যদানাÑযেমন গম, মটর, খেসারি, সরিষা, ভুট্টা, কালাই, ধান, চাল প্রভৃতি খেয়ে থাকে। এরা খোলা আকাশে উড়ে বেড়ায়। অনেক সময় নিজেরাই প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করে। তবে কবুতরের খাবারে আমিষ থাকা প্রয়োজন। দ্রæত বৃদ্ধি, হাড় শক্ত ও পুষ্টির জন্য ঝিনুকের খোসার গুঁড়ো, চুনাপাথর, হাড়ের গুঁড়ো, লবণ প্রভৃতি মেশানো খাবার খাওয়াতে হবে। প্রতিদিন কিছু কাঁচা শাকসবজি কবুতরকে খেতে দিলে ভালো হয়।

পুঁজি

প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ হাজার থেকে আট হাজার টাকার প্রয়োজন হবে

সম্ভাব্য আয়-ব্যয়

আট জোড়া কবুতরের জন্য একটি ঘর বানাতে আনুমানিক এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক আট জোড়া কবুতরের দাম দুই হাজার ৪০০ থেকে তিন হাজার টাকা। আট জোড়া কবুতর থেকে প্রতি মাসে পাঁচ থেকে ছয় জোড়া কবুতরের বাচ্চা পাওয়া যাবে। এগুলো বিক্রি করে গড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করা সম্ভব।

প্রশিক্ষণ

অভিজ্ঞ কারও কাছ থেকে কবুতর পালনের বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন। কবুতর পালন-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ইউনিয়ন পর্যায়ে পশু কর্মকর্তা অথবা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে। সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে। এসব কেন্দ্রে পশু পালনবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

 

 

 

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..