এসএমই

বিজনেস আইডিয়া: এসি মেরামত

নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে কী দিয়ে শুরু করবেন। এজন্য দরকার অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন ব্যবসা। এ ধরনের উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে শেয়ার বিজের সাপ্তাহিক আয়োজন

এসি মেরামত
জীবনযাপনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পণ্যের একটি এয়ারকন্ডিশনার। বিশেষ করে নগরজীবনে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। গরমের হাঁসফাঁস থেকে রেহাই পেতে আজকাল অনেকে বাসাবাড়িতে এসি ব্যবহার করছেন। অফিসের কথা না হয় বাদই দিলাম। কেননা, এসি ছাড়া কোনো অফিসের কথা চিন্তা করা যায় না। বাসাবাড়ির অবস্থাও কাছাকাছি। বোঝাই যায়, এয়ারকন্ডিশনারের ব্যবহার বেড়েছে, আরও বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে এর মেরামতেরও প্রয়োজন পড়বে। এ কারণে ব্যবহারকারীর চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি নিজের রুটি-রোজগারের অন্যতম সহায় হতে পারে এসি মেরামত। কাজেই এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন আপনিও।

প্রশিক্ষণ
কোনো ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে সে ব্যবসার নানা দিক জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসি এবং এ যন্ত্রটি মেরামতের খুঁটিনাটি জেনে নিতে পারেন। এজন্য হাতেকলমে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। প্রয়োজনে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিন নিজের প্রতিষ্ঠানে। তাদের কাছ থেকে এ টেকনিক্যাল কাজটি শিখে নিন। ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।

জনবল
নিজস্ব এলাকাভিত্তিক ব্যবসা করতে চাইলে দুই থেকে চারজন কর্মী নিয়োগ দিতে পারেন। এলাকার বাইরেও কাজ করতে চাইলে কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে পারেন। খেয়াল রাখবেন, কর্মীরা যেন বিশ্বস্ত হন। অবশ্যই কাজে পটু হতে হবে। তাদের মধ্যে সেবাদানের মানসিকতা গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। দিন ও রাতের যে কোনো সময় যেন তারা সেবা দিতে পারেন সেদিকে খেয়াল রাখুন।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা দোকান
বাসাবাড়িতে থেকেও ব্যবসাটি পরিচালনা করা যায়। বিশেষ করে বাড়ির নিচতলায় দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি চালু করতে পারেন। আজকাল দেখা যায়, অনেক বাড়ির নিচতলায় এসি মেরামতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসির পাশাপাশি রেফ্রিজারেটরও মেরামত করে থাকেন তারা। তবে আপনি শুরুতে কেবল এসি মেরামত দিয়ে শুরু করুন ব্যবসাটি। এরপর প্রতিষ্ঠানটির একটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় নাম নির্ধারণ করুন। তাহলে ক্রেতা আকৃষ্ট হবেন।

মূলধন ও আয়
দোকান ভাড়া, কর্মীদের বেতন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা প্রভৃতির জন্য হাতে কিছু পুঁজি রাখা উচিত। দোকান ভাড়া স্থানভেদে ভিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক। কর্মীদের বেতন-ভাতাদিও আলোচনাসাপেক্ষে নির্ধারণ করে নিন। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির জন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাহায্য নিন। এসব দিক বিবেচনা করে শুরুতে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতে রাখতে পারেন। কাজের মান সন্তোষজনক হলে আয় নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। মাসে ৫০ হাজার কিংবা তার বেশি আয় করতে পারবেন।

প্রচারেই প্রসার
প্রাথমিক কাজ শেষ। এবার প্রচার চালানো শুরু করুন। মহল্লার দেয়ালে আপনার ব্যবসার ধরন, মোবাইল ফোন নম্বর, ঠিকানা প্রভৃতি তথ্যসংবলিত পোস্টার সাঁটিয়ে দিতে পারেন। ব্যবসার পরিধি বাড়ার সঙ্গে বিভিন্ন অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। অর্থাৎ জনসংযোগ বাড়াতে হবে। এজন্য অফিসে অফিসে গিয়ে বিজনেস কার্ড দিয়ে আসতে পারেন। কার্ডটি দেখতে যেন সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়। আপনার সেবা কেন নেবেন তারা, সে বিষয়ে ধারণা দিতে পারেন।
আপনার সেবা সম্পর্কিত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে দিতে পারেন। আমাদের দেশে ফেসবুকের ব্যবহার শীর্ষে। প্রতিষ্ঠানের জন্য এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যান পেজ তৈরি করতে পারেন। এখানে গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ান। নিয়মিত স্ট্যাটাস দিতে থাকুন। সেবার ধরন পরিষ্কার করুন গ্রাহকের কাছে। ফেসবুক পোস্ট বুস্ট করে নিতে পারেন ক্রেতারা আকৃষ্ট হবেন। পেজে সময়, ফোন নম্বর প্রভৃতি উল্লেখ করুন। ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। এতে লগ অন সুবিধা রাখুন। সেবাপ্রার্থীরা যেন সহজে সেখানে প্রবেশ করতে পারেন, সেবা পেতে পারেন।

 

সর্বশেষে
সাহস, সততা ও পরিশ্রম পুঁজি করে এগিয়ে চলুন, সফল হবেন।

রাহুল সরকার

সর্বশেষ..