প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিজনেস আইডিয়া: কাগজের খাম

শিপন আহমেদ: নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ঠিক করতে হবে কী দিয়ে শুরু করবেন। এজন্য দরকার অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এমন ব্যবসা। এ ধরনের উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে শেয়ার বিজের সাপ্তাহিক আয়োজন

খাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘এনভেলপ’। প্রয়োজনীয় কাগজ, চিঠি ডাকযোগে বা হাতে হাতে পাঠানোর জন্য অনেক আগে থেকে খামের ব্যবহার হয়ে আসছে। যেমন অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল-কলেজের জরুরি কাগজপত্র খামে করে পাঠানো হয়। এছাড়া নববর্ষ, ঈদ, পূজা, হালখাতা, সেমিনার, বিয়ে, জš§দিন, দাওয়াতপত্র, শুভেচ্ছা কার্ড প্রভৃতি বিভিন্ন রকম খামে ভরে পাঠানোর রেওয়াজও রয়েছে। অর্থাৎ সারা বছরই খামের চাহিদা থাকে। স্বনির্ভর  কর্মসংস্থান ও কম পুঁজির উপায় হিসেবে আপনিও এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

যে কোনো জিনিস তৈরির কিছু সুবিধা ও অসুবিধা থাকে। কাগজের খাম তৈরির ক্ষেত্রেও কথাটি সমানভাবে প্রযোজ্য।

 

সুবিধা

তুলনামূলক কম পুঁজি লাগে

পরিবারের সবাই মিলে এ কাজ করা যায়

লাভ বেশি

ঘরে বসে বিক্রি করা যায়

দোকান নিয়েও বিক্রি করতে পারেন

পাইকার বা খুচরা দোকানদারদের কাছে বিক্রি করা যায়

শহর বা গ্রাম সব জায়গায় এ ব্যবসা করা যায়

 

অসুবিধা

কাগজের খাম বানানোর সময় ভাঁজটা ঠিকমতো দিতে হবে। ভাঁজটা এলোমেলো হলে খাম সুন্দর দেখাবে না

খামের যেসব অংশে আঠা লাগানো হয়, তা ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে। ভালোমতো না শুকালে জোড়া দেওয়া জায়গার কাগজ খুলে যেতে পারে

 

বাজার সম্ভাবনা

অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল-কলেজের জরুরি কাগজপত্রসহ বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে নানা রকম খামে করে প্রয়োজনীয় বার্তা বা উপহার পাঠানো হয়। সঙ্গত কারণে এর বিশাল বাজার রয়েছে।

 

উপকরণ

কাগজ, কাগজ কাটার মেশিন, আটা, পানি, হাতুড়ি, বাটাল, ফর্মা, সুতা, পিচবোর্ড, সিজার, তুঁতে, গামলা প্রভৃতি।

 

পুঁজি

৫০০০ থেকে ১০ হাজার হাজার টাকা নিয়ে এ ব্যবসা শুরু করা যায়। তবে কাগজ কাটার মেশিন কিনলে খরচটা

বেশি পড়বে।

 

আয়রোজগার

খামের দাম খুব বেশি ওঠানামা করে না। তবে এর কাঁচামালের দাম বিভিন্ন সময়

কম-বেশি হতে পারে। একজন কারিগর সাধারণত দিনপ্রতি ১০০০ থেকে ১৫০০ খাম তৈরি করতে পারেন। বিভিন্ন মাপের ১০০০ খাম তৈরিতে খরচ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। বিক্রি হয় ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকায়। নানা আকারের খাম আছে। তবে ১০/৪ সাইজের খামের চাহিদা বেশি। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী খাম তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে যোগাযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগ ভালো থাকলে এ ব্যবসায় দ্রæত উন্নতি করা যাবে।

 

প্রশিক্ষণ

কাগজের খাম তৈরির কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। অভিজ্ঞ কোনো ব্যক্তি বা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তৈরির নিয়ম

হাতে-কলমে শিখে নিতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের খাম বিভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। একবার দেখে নিলেই শেখা যায়। এক্ষেত্রে ধৈর্যশীল হতে হবে।