প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিডি অটোকারসের আর্থিক প্রতিবেদনে অসংগতি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বিডি অটোকারস লিমিটেডের আর্থিক প্রতিবেদনে অসংগতি পাওয়া গেছে। গত ৩০ জুন কোম্পানিটির সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণকালে এর বিভিন্ন অসংগতির দিক তুলে ধরেছে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিরীক্ষকের মতে, বিডি অটোকারস পরিচালনা পর্ষদ আর্থিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (বিএএস) অনুসরণ করেনি। এর মধ্যে কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে প্রারম্ভিক ব্যয়, বিলম্বিত রাজস্ব ব্যয়, অবণ্টিত ব্যয় ও অন্যান্য ব্যয় একসঙ্গে মোট ৪৪ লাখ ২২ হাজার ৬৪ টাকা দেখানো হয়েছে। কিন্তু বিএএসের নিয়ম অনুযায়ী এসব খরচ আলাদা করে দেখাতে হয়। এদিকে আলোচিত আর্থিক প্রতিবেদনে বিলম্বিত করের বিষয়ও স্বীকার করেনি প্রতিষ্ঠানটি, যা বিএএস-১২ লঙ্ঘন। আগামী বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) আলোচিত ব্যয়, বিলম্বিত করের বিষয়টি শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

এদিকে কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত) কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসানের পরিমাণ তিন পয়সা। আগের বছর একই সময়ে কোম্পানির ইপিএস ছিল ২৮ পয়সা। অন্যদিকে কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ এক কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

কোম্পানিটি ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তিন বছর শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি। গত সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য তিন শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে।

পুঞ্জীভূত লোকসান, আর্থিক অসংগতি থাকলেও কোম্পানির শেয়ারদর গত তিন মাসে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৪৫ টাকা। গতকাল কোম্পানির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৭৫ টাকা ৯০ পয়সা। আলোচিত সময়ে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়ে সর্বোচ্চ ৮৮ টাকা ৫০ পয়সা বেচাকেনা হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে কোম্পানির শেয়ারদরে কিছুটা পতন হয়েছে।

কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ১৯৮৮ সালে তালিকাভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন তিন কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কোম্পানিটি বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে ৪১ দশমিক ৯৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫০ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।