প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিতরণ মার্জিন না বাড়ানোর প্রভাব তিতাসের দরে

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্যাসের দর বাড়ানো হলেও বিতরণ মার্জিন না বাড়ানোর প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদরে। কোম্পানিটির আয়ের প্রধান উৎস বিতরণ মার্জিন বাড়ানোর আবেদন গত বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর প্রভাবে গতকাল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিটির শেয়ারদর ছয় দশমিক ৭৫ শতাংশ বা চার টাকা ১০ পয়সা কমে দরপতনের তালিকার শীর্ষে উঠে আসে। দিনজুড়েই এ শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ দেখা যায়।

উল্লেখ্য, তিতাস গ্যাসের বিতরণ রাজস্ব চাহিদা মেটাতে প্রতি ঘনমিটার ভারিত গড়ে ০.৪০২৯ টাকা আয় প্রয়োজন। এর বিপরীতে বিদ্যমান আয় প্রতি ঘনমিটার ০.৫৫৭৫ টাকা। এর মধ্যে প্রতি ঘনমিটার ০.২২৭৬ টাকা ডিস্ট্রিবিউশন চার্জ বাবদ এবং অবশিষ্ট ০.৩২৯৯ টাকা অন্যান্য আয় হতে অর্জিত হবে। এই বিবেচনায় তিতাস গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউশন চার্জ পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন মনে করেনি বিইআরসি।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বিতরণ মার্জিন না বাড়ায় এ কোম্পানির মুনাফা কমে যাবে এমন আশঙ্কায় তারা এ শেয়ার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। যাদের হাতে এ শেয়ার ছিল, তারা বিক্রি করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারা আরও জানান, ২০১৫ সালে বিতরণ মার্জিন কমানোর কারণে তিতাসের মুনাফা কমে গিয়েছিল। কারণ তিতাসের আয়ের ৬০ শতাংশ আসে বিতরণ চার্জ থেকে।

গতকালের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ শেয়ার সর্বশেষ ৫৫ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়। দিনজুড়ে শেয়ারদর ৫৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৫৯ টাকা ২০ পয়সায় ওঠানামা করে। এদিন ৯১ লাখ ৬১ হাজার ২১৮টি শেয়ার চার হাজার ৮৯৪ বার হতবদল হয়। যার বাজারদর ৫১ কোটি ৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। গত এক বছরে এ শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৪১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৫৯ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে।

উল্লেখ্য, ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি ২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ২০১৬ সালের জন্য কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়ায় সাত টাকা ৩৭ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) ৬২ টাকা ৬৪ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ৭২৯ কোটি ৩৯ লাখ ২০ হাজার টাকা।

২০১৫ সালে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই সময় ইপিএস ছিল আট টাকা ৯৮ পয়সা এবং এনএভি ৫৮ টাকা ৩৬ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে ১০ টাকা ৩৮ পয়সা ও ৫৩ টাকা ১৩ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী আয় ছিল ৮৮৮ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল এক হাজার ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন দুই হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৯৮৯ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ পাঁচ হাজার ২০০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস হয়েছে এক টাকা আট পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল এক টাকা ৫৭ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস কমেছে ৮৯ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত এনএভি দাঁড়িয়েছে ৬৩ টাকা ৭৩ পয়সা, যা একই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল ৬২ টাকা ৬৪ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ১০৭ কোটি পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৮২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৩২ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে ৫০ পয়সা। গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৯১ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল এক টাকা ৮৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত এনএভি ছিল ৬২ টাকা ৫৫ পয়সা, যা একই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল ৬২ টাকা ৬৪ পয়সা।

কোম্পানিটির মোট ৯৮ কোটি ৯২ লাখ ২১ হাজার ৮৩১টি শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ সরকার, ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক, এক দশমিক ৮৩ শতাংশ বিদেশি ও বাকি ৯ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে।