বাণিজ্য সংবাদ

বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ১৪ হাজার কোটি টাকা

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের অন্যতম প্রধান সেক্টর চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে দেশের বৃহৎ রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থবছর শেষে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বিদায়ী (২০১৮-১৯) অর্থবছরে ৫৭ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয় এনবিআর।
তবে বছর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি আয় করতে সক্ষম হয়েছে মাত্র ৪৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা, যেক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রবৃদ্ধির হার ২৪ দশমিক ১৬ শতাংশ কম। অবশ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদায়ী অর্থবছরে গাড়ির মতো উচ্চশুল্কের পণ্য আমদানি কমে যাওয়া, ইলেকট্রনিকস কোম্পানির জন্য পার্টস ও তেল আমদানি কমাসহ বিভিন্ন কারণে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের তথ্যমতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৭ হাজার ৪৬২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিপরীতে ১৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা কম আদায়ের ফলে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র দুই দশমিক ৯১ শতাংশ, যেক্ষেত্রে আগের মাসেও প্রবৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ ছিল। কিন্তু অর্থবছর শেষে কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টমস।
অপরদিকে পুরো অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির হার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অর্থবছরের তৃতীয় মাসে সার্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে কাস্টমস। অর্থাৎ গত সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ। এরপর অক্টোবরে তা কমে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। তার পর থেকে ক্রমান্বয়ে প্রবৃদ্ধির হার কমতে থাকে নভেম্বরে সাত শতাংশ, ডিসেম্বরে পাঁচ দশমিক ২০ শতাংশ। তবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে এক শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও মার্চে এসে আবার হ্রাস পায় প্রবৃদ্ধি। অর্থাৎ মার্চ মাসে সাত দশমিক ৫০ শতাংশে, এপ্রিল মাসে পাঁচ দশমিক ৬৯ শতাংশে, মে মাসে চার দশমিক ৪৪ শতাংশে ও সর্বশেষ জুন মাসে এসে দাঁড়ায় দুই দশমিক ৯১ শতাংশে।
এছাড়া অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য ছিল না। অর্থাৎ জুলাই মাসে চার দশমিক ৭৮ শতাংশ ও আগস্ট মাসে ছিল দুই দশমিক ৪৩ শতাংশ।
লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া প্রসঙ্গে কাস্টম হাউজের কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি চোরাচালান রোধ, জাতীয় নিরাপত্তা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও রফতানি বৃদ্ধি, ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখা, কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানোসহ অনেক বিষয়ে নজর রাখতে হয় কাস্টম হাউজকে। এর পরও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার পেছনে কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গাড়ির মতো উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি কমে যাওয়া, স্থানীয় ইলেকট্রনিকস কোম্পানির জন্য পার্টস আমদানি বৃদ্ধি, মোটরসাইকেলের ১০-১২টি কারখানা গড়ে ওঠায় বিভিন্ন এসআরও’র আওতায় সিকেডি (বিযুক্ত) আমদানি বেড়ে যাওয়া, তেল আমদানিতে লক্ষ্য পূরণ না হওয়া, জাতীয় নির্বাচন প্রভৃতি।
নতুন অর্থবছরে পুরোদমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে জানিয়ে কাস্টমস কমিশনার বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান আমদানি-রফতানির মধ্যেও অনুমোদনের চেয়ে কম জনবল নিয়ে কাজ করছি আমরা। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা চেয়েছি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে। কারণ পণ্য চালান আটকে রাখার সুযোগ নেই। বিল অব এন্ট্রি দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি করতে চাই। কারণ পণ্য ছাড়ে এক দিন দেরি হওয়া মানে মাশুল গুনতে হয় আমদানিকারককে। তৈরি পোশাক খাতের আমদানি পণ্যকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই, কারণ তারা প্রতিযোগিতা করে আন্তর্জাতিক বাজারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..