সম্পাদকীয়

বিদেশফেরতদের কাজ প্রাপ্তি নিশ্চিত হোক

সংখ্যার বিচারে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জনশক্তি জোগানদাতা হিসেবে আমাদের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের অবদান অনেক। আমাদের প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) একটা বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত শ্রমিকদের থেকে। এখনও আমাদের অর্থনীতির এ সূচক ইতিবাচক। কিন্তু আমরা জানি, বেশিরভাগ প্রবাসীর বিদেশজীবন মোটেই সুখকর নয়। বিদেশ যাওয়ার ব্যয় বেড়েছে, আছে মধ্য স্বত্বভোগী দালালের দৌরাত্ম্য। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন আরব দেশে থেকে চরম নির্যাতিত হয়ে নারী কর্মীদের দেশে ফিরে আসতে হয়। অথচ অর্থনীতির বড় নির্ভরতার জায়গা হচ্ছে প্রবাসী-আয়, যার ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে অর্থনীতি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর বড় কৃতিত্ব প্রবাসী আয়ের।

রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের দিক থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানও বহু বছর ধরে যথেষ্ট শক্তিশালী। ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী বেশি রেমিট্যান্স আসা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল নবম। মহামারি কভিডের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্স প্রবাহ কমলেও আমাদের বেড়েছে। গত বছর বাংলাদেশ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির দিক থেকে অষ্টম স্থানে ছিল।

কভিডকালে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে। আয় কমেছে সবার। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নতুন করে কেউ যেন কাজ না হারায়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। কভিডকালে বিভিন্ন দেশে এখনও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আছে। যেখানে নিষেধাজ্ঞা নেই, সেসব দেশের প্রবাসীদের কাজ হারানো কোনোভাবেই কাম্য নয়।

কভিড-বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে এবং উন্নয়নশীল দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রেমিট্যান্সই এখন বড় অবলম্বন। সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের জরিপে উঠে এসেছে, বিদেশফেরতদের ৫০ শতাংশই কাজ পাননি। শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত খবরে বলা হয়, দৈনন্দিন খরচ চালাতে পরিবারের আয় বা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে চলতে হচ্ছে কাজ হারানো প্রবাসী কর্মীদের। ৫৩ শতাংশ প্রবাসী কর্মী কৃষিকাজ, ছোটখাটো ব্যবসা বা শ্রমিক হিসেবে নিজেকে যুক্ত করে বর্তমানে পরিবার চালাচ্ছেন। তবে বিদেশফেরতদের ৯৮ শতাংশ এখনও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

কভিড সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর গত বছরের মার্চ-এপ্রিলে ফেরত আসা প্রবাসী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ওই বছরের ২২ মে একটি জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ব্র্যাক। এক বছর পর পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হয়েছে, সেটা জানতে ফের জরিপ করা হয়। তাতে উঠে আসা জরিপ স্বস্তিকর নয়।

আমরা জানি, কভিড মহামারি শুরু হওয়ার পর এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত পাঁচ লাখ প্রবাসী দেশে ফিরেতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে ফিরেছেন আতঙ্কে, অনেক ফিরেছেন চাকরি হারিয়ে, কেউ ফিরেছেন স্থায়ীভাবে। কেউবা কেবল ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিলেন। তারা ফিরে যেতে পারেননি।

প্রবাসীরা কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে নিদারুণ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তারা যথাসময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে অবস্থা আরও খারাপ হবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান স্বাভাবিক করতে এবং প্রবাসীদের ফেরা নির্ঝঞ্ঝাট করতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। যাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে, তারা যেন নতুন করে কর্মহীন না হয়। বিদেশফেরতদের কাজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রয়াস নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..