বাণিজ্য সংবাদ

বিদেশি উদ্যোক্তাদের আস্থার জায়গা বাংলাদেশ

ব্রিটিশ ও ইউএই প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে বর্তমানে জনমিতিক লভ্যাংশের বোনাসকাল চলছে। একই সঙ্গে এখানে প্রতিযোগিতামূলক দামে শ্রমিক পাওয়া যায়। যার সুযোগ নিতে পারেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ বর্তমানে দেশি উদ্যোক্তাদের জন্য আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
গত বুধবার সকালে ব্রিটিশ বিজনেস গ্রুপ আয়োজিত ব্রেকফাস্ট বৈঠক ও বিকালে নিজ কার্যালয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ব্রিটিশ বিজনেস গ্রুপের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, আমরা আগামী বছর আট দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে আট দশমিক ৩০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রত্যাশা করছি, যা ২০২৪ সাল নাগাদ দাঁড়াবে ১০ শতাংশ এবং সেটা অব্যাহত থাকবে। আমাদের রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক বেতন-ভাতায় সহজে প্রশিক্ষণযোগ্য নিবেদিতপ্রাণ জনশক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে স্বল্পব্যয় এবং আমাদের বৃহৎ শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশ সুবিধা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রণোদনার সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে অধিক হারে মুনাফার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। ব্রিটিশ সংস্থাগুলোর উচিত বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা এবং তার তরুণ ও বর্তমান জনসংখ্যার সুযোগ নেওয়া। কেননা বর্তমানে বাংলাদেশে জনমিতিক লভ্যাংশের (ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ড) সুযোগ বিদ্যমান। আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। জনমিতির পরিভাষায় ডিভিডেন্ড বলতে বোঝায় ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী মানুষের আধিক্য। এ বয়সসীমার মানুষই সবচেয়ে কমর্ক্ষম, যারা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। সেখানে বাংলাদেশে ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ১৫ থেকে ৫৯ বছরের এর মধ্যে। এ সময়কে জনসংখ্যার বোনাসকাল বলে। আর এ সময়টাতে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী সবচেয়ে কম থাকে। আর সবচেয়ে বেশি থাকে কর্মক্ষম জনসংখ্যা।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ধারাবাহিকভাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি; বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর বিদেশি উদ্যোক্তাদের আস্থার জায়গা এখন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ উজ্জ্বল সম্ভাবনাময়ী অর্থনীতির দেশ। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে চলমান অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকলে খুব সহসাই বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি অসাধারণ দেশ, তাই তিনি ব্যবসায়ীদের এদেশে বেশি বেশি বিনিয়োগের অনুরোধ করেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য একটি উত্তম স্থান, এখানে ব্যবসার ক্ষেত্রে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়, সারাবিশ্বে আর কোথাও সে সুযোগ-সুবিধা মিলবে না। ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশের তালিকায় অবস্থানে নেওয়ার যে লক্ষ্য সরকার ঠিক করেছে, তা অর্জনে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার যে পরিমাণ বাড়াতে হবে তা বাড়িয়েই আমার সে লক্ষ্য অর্জন করব। একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের অভাবনীয় অগ্রগতি আরও বেগবান করতে ব্রিটিশ বিজনেস গ্রুপের মতো সংগঠনের সহযোগিতা অপরিহার্য।
ব্রিটিশ বিজনেস গ্রুপের (বিজিবি) সভাপতি মি. ডিমেরি কোর্ট বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের সংস্থাগুলো বিভিন্ন শিল্পের অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী যা বাংলাদেশের অগ্রগতিকে সম্পূর্ণ সমর্থন করে চলেছে। বাংলাদেশ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। ব্রিটিশ সংস্থাগুলো শুধু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে না, বরং তাদের বিস্তৃত করপোরেট প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পাশাপাশি তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে দেশের উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সৃষ্টিতে সহযোগিতা করে চলেছে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার, রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের দীর্ঘকালীন বন্ধু। কিছু ব্রিটিশ সংস্থা ১৯৭১ সালে দেশটির জন্মের পর থেকেই এখানে ছিল। আগামী বছরগুলোয় ব্রিটিশ ব্যবসায়ের উপস্থিতি আশা করছি আরও বাড়বে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি সংকীর্ণ করা। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়ের পরিবেশ আরও বন্ধুত্বপূর্ণ করা দরকার। এক্ষেত্রে করনীতিতে স্থিতিশীলতা এবং ট্যাক্স পরিবর্তনের অগ্রিম বিজ্ঞপ্তি ব্যবসায় আরও ভালো পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।
এছাড়া অর্থমন্ত্রী বিকালে নিজ কার্যালয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করলে অর্থমন্ত্রী সাদরে আমন্ত্রণ জানান এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতার আশা ব্যক্ত করেন। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিমান টিকিটের ওপর কর জটিলতার বিষয়টিও বিবেচনার আশা ব্যক্ত করেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..