প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন

দেশে সর্বশেষ বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের নভেম্বরে। যদিও আগের সম্মেলনে পাওয়া প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী বিনিয়োগ মেলেনি। সম্মেলনে আয়োজন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সম্মেলনে পাওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিনিয়োগ না মিললে আয়োজনের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

গতবার সম্মেলনের আগে আয়োজক বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বলেছে, কভিড মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত যে ভেঙে পড়েনি, তা বিশ্বকে দেখাতে চায় সরকার। হয়তো তা বিশ্বকে তা দেখাতেও পেরেছে। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এ বার্তাও যাচ্ছে, তাদের কাছে যে, বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশ যে সংস্কার কার্যক্রম নিয়েছে, সেটি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারেনি।

বিনিয়োগবিষয়ক আন্তর্জাতিক অংশ নিয়েছেন কয়েকটি দেশের সরকারি প্রতিনিধি ও বিনিয়োগকারীরা, উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ (এআইআইবি) কয়েকটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশ অনেক পিছিয়ে। এ দেশে গড় এফডিআই এখনও ৩০০ কোটি ডলারের কম। অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ১৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি এফডিআই পায়। এই দুই দেশের সঙ্গে হয়তো আমাদের তুলনা চলে না। তা-ই বলে মোজাম্বিক, ইথিওপিয়া ও কম্বোডিয়ার চেয়েও পিছিয়ে থাকব আমরা!

গতকাল শেয়ার বিজের প্রধান প্রতিবেদন ছিল জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২২’ নিয়ে। আঙ্কটাড বলছে, আকর্ষণে এখনও অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মধ্যে তাই এফডিআই প্রবাহে বাংলাদেশ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। গতকাল বিশ্বব্যাপী প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে আঙ্কটাড। আলোচ্য সময়কালে আমাদের এফডিআই ছিল ২৮৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণে আমাদের নেয়া উদ্যোগ কম নয়। কাগজে-কলমে অনেক। কিন্তু সেটি থেকে দেশ কেন সুফল পাচ্ছে না, সেটিও যাচাই-মূল্যায়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জমির অপ্রতুলতা, সরকারি দপ্তরের সেবা নিতে হয়রানি, এক দরজায় সব সেবা না পাওয়া, আইনি দুর্বলতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে আসছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ সব ধরনের সুবিধা রয়েছে। রয়েছে দীর্ঘমেয়াদে কর অবকাশ সুবিধা। কিন্তু স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সেবাপ্রাপ্তিতে সময়ক্ষেপণে অনেকে নিরুৎসাহিত হন। আমরা মনে করি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে উন্নতি হবে, যা বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে। 

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে। অবশ্য এ খাতে প্রতিদ্ব›িদ্বতাও অনেক বেশি। বলা হয়ে থাকে, অবকাঠামোগত দুর্বলতায় প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় এক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। এজন্য আশানুরূপ বিনিয়োগ এ খাতে আসছে না। মাঝে মধ্যে নেতিবাচক সংবাদের জন্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্থান পায় বাংলাদেশ। এটিও বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা দেয়। যেমনÑবিএম কনটেইনার ডিপোয় অগ্নিদুর্ঘটনা। ব্যবসার পরিবেশে উন্নতি হলেও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেটিই সামনে আসে এমন ঘটনায়। এগুলো কাটিয়ে উঠতে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।