সম্পাদকীয়

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে উদ্যোগ নিন

একসময় চট্টগ্রাম ছিল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় স্থান। অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারীও এখানে বড় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সে চিত্রে ভাটা পড়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন অত্যন্ত নগণ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কাম্য নয়। এমনকি বিনেয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার সহায়ক নীতি প্রণয়ন করলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না। চট্টগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন কমে যাওয়ার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করি।

শতভাগ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (ডিএফআই) অথবা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড), অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগ অথবা এ এলাকার বাইরের বিনিয়োগ, স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে পাবলিক কোম্পানির শেয়ার কেনার দ্বারা তালিকাভুক্ত বিনিয়োগ, নিজস্ব ইপিজেড তৈরি প্রভৃতিতে উৎসাহিত করতে দ্রুত সেবা প্রাপ্তিসহ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন ছাড় দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এগুলো ভালো উদ্যোগ, সন্দেহ নেই। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে আমরা কতটা সফল, সেটি নতুন করে ভাবতে হবে।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নেই: চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে নিবন্ধন মাত্র ৫৭ কোটি টাকার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রকৃত চিত্র। এতে বলা হয়, গত বছর চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিল্প, বাণিজ্য ও ট্রেডিং ব্যবসায় চার বাণিজ্যিক প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগ নিবন্ধন ছিল ২১ কোটি ৯৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। আগের বছর ছিল ২৩ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

ভৌগোলিক অবস্থান, বন্দর, জমি ও অবকাঠামোগত সুযোগ থাকায় চট্টগ্রাম ছিল বিনিয়োগে বিদেশিদের প্রথম পছন্দ। এ শহরের ১২টি বহুজাতিক কোম্পানি বিনিয়োগ করেছিল। পরে নানা জটিলতায় পিছু হটে বিদেশি কোম্পানিগুলো। গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে মাত্র ৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয়, চট্টগ্রাম অঞ্চল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ হারিয়েছে। এটি তো হওয়া কথা নয়। এটি তো স্বীকৃত যে, বিদেশি বিনিয়োগে আমাদের মতো সুবিধা খুব কম দেশই দিয়েছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সম্পদ-প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে এর বড় ভূমিকা রয়েছে। সেখানে চট্টগ্রামের মতো বিনিয়োগ-সহায়ক অঞ্চলে বিনিয়োগ কমে যাওয়া নিশ্চয়ই ভালো লক্ষণ নয়। প্রতি বছর বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে জরিপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। হয়তো চটগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার বিষয়টিও উঠে আসবে জরিপে। মতবিনিময়, উদ্বুদ্ধকরণ প্রয়োজনে দূতাবাসের সহায়তা নিয়ে বিনিয়োগ বাড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..