সম্পাদকীয়

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা কাম্য

কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আয়ের অভ্যন্তরীণ উৎস যথেষ্ট নয়। রাজস্ব ঘাটতি কিংবা অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন মেটাতে সব দেশই প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) ও বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে। আমাদের দেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি উৎসের হিস্যা ৭৬ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বৈদেশিক সহায়তার অবদান ২৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়ক ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়োগ নীতিতে সংস্কার করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছেÑশতভাগ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (ডিএফআই) অথবা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইজেড) যৌথ বিনিয়োগ অথবা এ এলাকার বাইরের বিনিয়োগ, স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে পাবলিক কোম্পানির শেয়ার কেনার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত বিনিয়োগ প্রভৃতি। বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষার জন্য দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয়ও আঞ্চলিক চুক্তি করেছে। এছাড়া শিল্পায়নকে শক্তিশালী করতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে উš§ুক্ত নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইপিজেড, ইজেডে বিদেশিদের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, বিদেশিদের জন্য আলাদা ইজেড করা হচ্ছে।

এমন সুযোগ-প্রণোদনায় এফডিআই বাড়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের আলোকে রচিত গতকাল শেয়ার বিজের ‘চলতি বছর ছয় মাসে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২৩ শতাংশ’ শীর্ষক প্রতিবেদন আশার সঞ্চার করবে না।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, চলতি পঞ্জিকাবর্ষের প্রথম ছয় মাসে এফডিআই এসেছে ১৬৯ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার, এর আগের ছয় মাসের তুলনায় যা ৫০ কোটি ৫৬ লাখ ডলার কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বড় দুই মোবাইল ফোন অপারেটরের টানাপড়েনে বিনিয়োগ কমেছে। আর পোশাক খাতে নতুন বিনিয়োগ আসছে না। অথচ বিদেশি বিনিয়োগে আমাদের মতো সুবিধা খুব কম দেশই দিয়েছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সম্পদ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে এফডিআই। এসডিজি অর্জনে এর বড় ভূমিকা রয়েছে। সেখানে বিনিয়োগ কমে যাওয়া কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ নয়।

২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদনক্ষমতা উন্নীতকরণ ও বহুমুখীকরণে জাতীয় প্রচেষ্টার সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতাও বাড়াতে হবে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রয়োজন। গ্রামীণফোন ও রবির সঙ্গে টানাপড়েন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত না করে, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছরই এফডিআই নিয়ে জরিপ পরিচালনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পাশাপাশি অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সাধনও দরকার। প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য এ উপাদান বাড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

সর্বশেষ..