সম্পাদকীয়

বিদেশের বাজারে কীটনাশকমুক্ত বাঁধাকপি

 

যশোরে উৎপাদিত কীটনাশকমুক্ত বাঁধাকপি রফতানি হচ্ছে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে। মঙ্গলবারের শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সারকথা হলো, কপি রফতানি করে ওখানকার কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। তাদের মুখে ফুটেছে হাসি। যশোর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্যে জানা যায়, ৬৪ টন বাঁধাকপি এরই মধ্যে রফতানি হয়েছে উল্লিখিত দুই দেশের বাজারে। কিছু দিন পর এ সবজি আরও কিছু পাঠানো হবে সেখানে। একই সঙ্গে কীটনাশকমুক্ত কাঁচামরিচ, পটোল ও শিম কেনার আগ্রহ নাকি দেখিয়েছেন ওই দেশের আমদানিকারকরা।

বাংলাদেশ থেকে অপ্রক্রিয়াকৃত সবজি ও ফল রফতানি ক্রমে বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রয়েছে আমাদের ফল ও সবজির বিস্তৃত বাজার। উল্লিখিত দুই দেশেও এমন সম্ভাবনা যে রয়েছে, তা জানা গিয়েছিল আরও আগে। এক্ষেত্রে ভেবে দেখার বিষয়, ওসব দেশে কারা কিনছে আমাদের রফতানি করা সবজি? দেশ দুটিতে বাংলাদেশি অনেক শ্রমিক যে বাস করেন, তা অনেকের জানা। কয়েকদিন আগে সহযোগী এক দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমরা জেনেছি, মধ্যপ্রাচ্যে যেসব সবজি রফতানি হয়, তার সিংহভাগ ভোক্তাই প্রবাসী বাংলাদেশি, ভারতীয় কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের অধিবাসী। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বাজারের বাস্তবতাও যদি এ-ই হয়, তাহলে সে ব্যাপারে আমাদের ভাবতে হবে। কেননা ওসব দেশে আমদানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের যাবতীয় শর্ত ও নিয়ম মেনে। সে অনুযায়ী দেশ দুটির স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে আমাদের বিশেষভাবে উৎপাদিত সবজি অপছন্দ হওয়ার কথা নয়। এক্ষেত্রে প্রচারে যদি কোনো ঘাটতি থাকে, তাহলে তা কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে আমরা দৃষ্টি দিতে বলব ওখানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে। সবজি রফতানি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রক্রিয়াকরণের অভাবে ইউরোপ-আমেরিকার সুপার শপগুলোয় প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না তাদের পক্ষে। এজন্য কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হিমাগার ও পরিবহনের ব্যাপারে সহায়তার দাবি তারা জানিয়েছিলেন সরকারের কাছে। আমরা মনে করি, এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রযুক্তি কেনায় উদাসীন বা পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। যে উদ্যোগ নিলে স্থানীয় চাষিরা লাভবান হবেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন দ্বার উম্মোচিত হবে, সে ব্যাপারে ধীরগতিতে এগোনো উচিত হবে না।

আয় বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বেড়ে ওঠার সঙ্গে দেশেও কীটনাশকমুক্ত সবজির বাজার বড় হচ্ছে ক্রমে। শহর ও নগরে এসব ঘিরে গড়ে উঠছে বিশেষায়িত দোকান। এটা ঠিক, ইন্টিগ্রেটেড পেস্টিসাইড ম্যানেজমেন্ট (আইপিএম) পদ্ধতি কৃষি উৎপাদনে ব্যবহার শুধু মানব স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী নয়, তাতে খরচও কমে বলে ধারণা। বিশেষভাবে উৎপাদিত এসব কৃষিপণ্য যে এখন যুক্তিসঙ্গত দামে বিক্রি করা সহজ, চাষিকে এ তথ্য জানানোও দরকার। এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) প্রয়োজনীয় উদ্যোগ আমরা প্রত্যাশা করি।

সর্বশেষ..