সারা বাংলা

বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই চলছে চার লেনের কাজ

সোনাপুর-চৌমুহনী সড়ক

প্রতিনিধি, নোয়াখালী: নোয়াখালীর প্রধান সড়কের সোনাপুর-চৌমুহনী অংশের মাঝখানে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে চলছে নিম্নমানের পিচ ঢালাইয়ের কাজ।
জানা যায়, ৯৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে সোনাপুর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প একনেকে পাস হয় ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর। এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২০ সালের ৩০ জুন। এর মধ্যে দু’বছর পেরিয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত অপসারণ করা হয়নি বৈদ্যুতিক খুঁটি। এমনকি শহর অংশে দুই বছরেও ভূমি অধিগ্রহণ করা স্থাপনার ক্ষতিপূরণ প্রদান সম্পন্ন হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরোনো সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। সড়কের মাঝখানে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং অত্যন্ত নিম্নমানের ও দায়সারা গোছের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় নিম্নমানের বালি, খোয়া ও পুরোনো কিছু পাথর দিয়ে কোনো কোনো স্থানে করা হচ্ছে পিচ ঢালাই। আবার কোনো কোনো ঠিকাদার সড়কের কিছু অংশে বালি ফেলে দায়সারা গোছের কাজ সম্পন্ন করলেও বাদবাকি কাজের পুরোটাই রয়েছে অগোছালো।
আবার এসব ঠিকাদার মোটা অঙ্কের লাভের চিন্তায় চার লেনের নামে দায়সারা ও নিম্নমানের কাজ করলেও এসব কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে চিন্তিত জেলার সচেতন নাগরিকেরা। এ বিষয়ে নোয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল বলেন, চার লেনের কাজ এখনও অনেক বাকি। শেষ পর্যায়ে তারা তদারকি করবেন।
এদিকে স্থানীয়রা এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতর বলছে, বিদ্যুৎ বিভাগকে খুঁটি অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়ার পরও তারা খুঁটিগুলো এখনও অপসারণ করেনি।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল জানান, বিদ্যুৎ বিভাগকে ক্ষতিপূরণের টাকা অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে। এখন তারা যদি খুঁটি অপসারণ না করে, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। প্রকল্পের নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে, তাই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে হবে আমাদের। খুঁটি অপসারণ না করাটা বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সড়কের মাঝখানের বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ না করায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিপদসংকুল পরিবেশ দেখা দিয়েছে। দূরপাল্লার গাড়িগুলো অনেকটা আতঙ্কগ্রস্ত পরিবেশে চলাচল করছে বলে জানান ঢাকা-নোয়াখালী রুটের চালক নুরনবী। তিনি বলেন, কারও বিপদ তো আর বলে আসে না। বড় গাড়িগুলোর যাত্রীর চাপ নিয়ে কখন কী ঘটে, সেটা বলা মুশকিল।
নোয়াখালী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস ইবনে আলম জানান, যে জায়গায় খুঁটি অপসারণ করার কথা, সে জায়গা অধিকতর নিচু। তাই এ সময়ে সেখানে খুঁটি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তম্নয় দাস জানান, চার লেনের জায়গা অধিগ্রহণ করার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। তারা দ্রুত পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য কাজ করছে।

সর্বশেষ..