সম্পাদকীয়

বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাড়তি সুবিধার পরও দর বৃদ্ধি অগ্রহণযোগ্য

কয়েক বছর আগেও দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নাজুক ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে অনেক। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে জটিলতা এখনো রয়ে গেছে। বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এজন্য বহুলাংশে বেসরকারি খাতে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে বেশি দায়ী করা হয়। সে দৃষ্টিকোণ থেকে বেসরকারি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমানোর দিকে নজর দেওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু তা না করে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আর লোকসানের বোঝা গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘২০৩৪ সাল পর্যন্ত করছাড় পেল বেসরকারি বিদ্যুৎ খাত’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে করের ক্ষেত্রে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত ছাড় দিয়েছে সরকার। তবে এ ছাড় সুবিধা পেতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদনে যেতে হবে। বাড়তি খরচ, পরিবেশ দূষণ, অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা কারণে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। তারপরও এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি বাড়তি সুবিধা দেওয়া অযৌক্তিক বলে মনে করি।

স্বল্পমেয়াদে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে মূলত বেসরকারি উৎপাদনকেন্দ্রগুলোকে অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। সে সময় ক্রমেই রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে লক্ষ্য পূরণ হয়নি, উল্টো বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্চা যাচ্ছে। এ ব্যয়ের বড় অংশ যাচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ। ওভারহোলিংয়ের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকলে কিংবা বিদ্যুৎ কেনা না হলেও এ চার্জ দিতে হয়। এর সঙ্গে আরও কিছু চার্জ রয়েছে। এর ভার পিডিবিসহ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করতে হচ্ছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আর উচ্চমূল্যের বিদ্যুতের বোঝা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দ্রুত বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

নতুন করে করছাড়ের বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০৩৪ সাল পর্যন্ত করছাড়সহ কিছু বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে কোম্পানিগুলো। ফলে আরও অন্তত ১৪ বছর বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি প্রভাব থাকা অনেকটা নিশ্চিত। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণও বটে। অনিয়ম-দুর্নীতিও বড় সমস্যা। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতের প্রভাব ও বেশি ব্যয় করার প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..