সম্পাদকীয়

বিদ্যুৎ উৎপাদনে অপব্যয় রোধে ব্যবস্থা নিন

বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে আমরা যতই সাফল্য দাবি করি না কেন, এ খাতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় সে সাফল্য অনেকটাই ম্লান করে দেয়। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিপুল অর্থ গচ্চা যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার একদিকে কম দামে জ্বালানি সরবরাহ করছে, অন্যদিকে বেশি দামে কিনছে বিদ্যুৎ। সেই বিদ্যুৎ ভোক্তার কাছে সরকার বিক্রি করছে অর্ধেকেরও কম মূল্যে। এভাবে ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে সরকার রাষ্ট্রীয় অর্থ লোকসান দিচ্ছে বলেই অভিযোগ।
গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘পিডিবির ডিজেলচালিত সাত কেন্দ্র: নামমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনে অস্বাভাবিক ব্যয়’ শীর্ষক প্রতিবেদন তারই উদাহরণ। এতে বলা হয়, এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যয় পড়ছে ইউনিটপ্রতি ২৩-৫২ টাকা।
প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রায় চার লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে তিন মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্র স্থাপন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। কেন্দ্রটিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় মাত্র সাত লাখ ৮৫ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা। ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় পড়ে ৩৫ টাকা ১৯ পয়সা। একই অবস্থা কুতুবদিয়া ও হাতিয়া ডিজেল জেনারেটরচালিত কেন্দ্র দুটির। সেখানে ইউনিটপ্রতি যথাক্রমে ৫২ টাকা ৯২ পয়সা ও ২৩ টাকা ৭১ পয়সা। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু নয়, পিডিবির ডিজেলচালিত অন্যান্য কেন্দ্রেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় পড়ছে ৩০ টাকার বেশিÑযদিও এ বিদ্যুৎ গ্রাহক পর্যায়ে ছয় থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়। আর বিতরণকারী কোম্পানিকে বাল্ক (পাইকারি) রেটে চার টাকা ৮৪ পয়সায় বিক্রি করে পিডিবি।
আধুনিক যুগে বিভিন্ন জ্বালানির সহজলভ্যতার কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমারই কথা। অথচ আমাদের দেশে ব্যয় বাড়ছে এবং এ খাতে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে, এটি দুঃখজনক।
সরকার চাইছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত থেকে ভর্তুকি পুরো তুলে নিতে। কিন্তু উৎপাদনব্যয়ই যদি ইউনিটপ্রতি ৩৫ থেকে ৫২ টাকা হয়, সে ক্ষেত্রে কীভাবে ভর্তুকি প্রত্যাহার হবে? নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যেমন সূর্যের আলো ও তাপ, বায়ুপ্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈবশক্তি (বায়োগ্যাস, বায়োম্যাস, বায়োফুয়েল) চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে হাতিয়া, সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়ার মতো দ্বীপে। এসব এলাকা জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার আওতায় আনা সত্যি ব্যয়বহুল। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পর নিঃশেষ হয় না। বিশ্বের অনেক দেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করছে। সঞ্চালন ব্যবস্থার বাইরে থাকা জনপদে শক্তিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র করা গেলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যহার কমবে। নতুবা প্রতি বছর বিপুল গচ্চা চলতেই থাকবে।

সর্বশেষ..