সম্পাদকীয়

বিদ্যুৎ উৎপাদনে অযৌক্তিক ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ হোক

আধুনিক সভ্যতার প্রধানতম অনুষঙ্গ বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎবিহীন নগরজীবন কল্পনা করা যায় না। সেই বিবেচনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শক্তিশালী করতে সরকার বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল। এ উদ্যোগ সফলও হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত বিদ্যুতের পরিমাণও বেড়েছে। বিষয়টি ইতিবাচক। কিন্তু বেসরকারি খাতের কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ প্রাপ্তিতে সরকারকে উচ্চ হারে ক্যাপাসিটি চার্জ গুনতে হচ্ছে। কোনো কোনো কেন্দ্র থেকে এক ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়ার পেছনেই ব্যয় হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকার ওপরে। বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অযৌক্তিক ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ হওয়া আবশ্যক বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘২০১৯-২০ অর্থবছর: প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ১৫৮০ টাকা!’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। এ ধরনের উদ্ভট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করি।

বর্তমানে দেশে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য সাত টাকার মতো। কিন্তু গড় উৎপাদন ব্যয় এর চেয়েও অনেক বেশি। বাড়তি উৎপাদন ব্যয় মেটানোর জন্য সরকারকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিতে হয়। আর সে অর্থ আসে জনগণের কর থেকে। আর জনগণের এ অর্থ ভর্তুকি আকারে চলে যাচ্ছে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানির পকেটে। সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির ফাঁকফোকর দিয়ে নানা কৌশলে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও অর্থ তুলে নিচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানি। এভাবে অর্থ লোপাট বন্ধ হওয়া উচিত বলে মনে করি।

এ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে কম খরচ পড়ে গ্যাস ব্যবহার করলে। কিন্তু সব সময় গ্যাসের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকে না। তাই ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় বেশি পড়ে। আবার বেসরকারি কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহƒত না হলেও পুরো সক্ষমতার বিপরীতে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয়। চুক্তিতে এ ধরনের প্রবিধান থাকা কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করি।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে কেরানীগঞ্জের পানগাঁওয়ে নির্মিত এপিআর এনার্জির কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইউনিটপ্রতি এক হাজার ৫৭৯ টাকা ৫৭ পয়সা ব্যয় হয়েছে। কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াট। আইপিপি কেন্দ্রটিতে বছরে ২১৬ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। অথচ গত অর্থবছর কেন্দ্রটিতে মাত্র ৩৪ লাখ ৪৮ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, যা সক্ষমতার এক শতাংশের কম। আর এর বিপরীতে ৫৩২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ গুনতে হয়েছে পিডিবিকে। এমন অযৌক্তিক ক্যাপাসিটি চার্জ পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..