Print Date & Time : 6 May 2021 Thursday 3:16 am

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতনির্ভরতা কমানো উচিত

প্রকাশ: March 4, 2021 সময়- 01:15 am

অনেকদিন ধরেই দেশে অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস পড়ে আছে। চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাত্র ৪৩ শতাংশ ব্যবহার করা হয়, বাকি ৫৭ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসিয়ে রেখে কেন্দ্র ভাড়া দেয়া হয়। ফলে দেশে বিদ্যুতে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে। ২০১৯ সালে অলস বসিয়ে রেখে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোকে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। এ কারণে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ না করার সুপারিশ করেছে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। অপচয় কিংবা লোপাট কমাতে বিদ্যুৎ খাতের প্রকৃত চাহিদ পুনরায় নিরূপণ করার সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থা। তার আগে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা অর্থনীতির জন্য ভালো হবে না বলে মত দিয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইইএফএ যে অমূলক পরামর্শ দেয়নি, তা প্রমাণিত বলেই প্রতীয়মান। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে পিছিয়ে পড়ছে সরকারি খাত’ প্রতিবেদনে যেন সেটিই নতুন উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের পর থেকে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দিলেও বেসরকারি খাতই প্রাধান্য পাচ্ছে। এতে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে সরকারি খাত। এছাড়া নির্মীয়মাণ ও চুক্তি সইয়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রেও এগিয়ে রয়েছে বেসরকারি খাত।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২১’র জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১৫১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চুক্তি সই করা হয়েছে। এর মধ্যে চালু হয়েছে ১১২টি। গত বছর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাতীয় সংসদেই বলেছেন, গত ১০ বছরে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দিয়েছে ৫২ হাজার ২৬০ কোটি টাকা।’ তা সত্ত্বেও অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ভর্তুকি দেয়া রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। অভিযোগ রয়েছে, ভর্তুকির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা তুলে দেয়া হচ্ছে কিছু কোম্পানির কাছে।

ভর্তুকি মেটাতে সরকারকে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হয়। সন্দেহ নেই, ভর্তুকি কমাতে দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই। কিন্তু তা কতটা যৌক্তিক! সাধারণ মানুষ বেশি দাম দেবে, রাষ্ট্র বেশি ভর্তুকি দেবে কিন্তু অলস বসে রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রেখে শ্বেতহস্তীপালন কেন?

রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে দুর্নীতি ও পদ্ধতিগত লোকসান কমিয়ে আনতে হবে। উন্নত ও বড় দেশগুলো দীর্ঘ সঞ্চালন লাইনে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ (যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) পদ্ধতিগত লোকসান মেনে নেয়া হয়। কিন্তু আমাদের পদ্ধতিগত লোকসান ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এটি কমিয়ে আনতে বিদ্যুৎ চুরি  এবং অলস বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের বিকল্প নেই করতে হবে। বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ না করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়। হয়তো দেখা যাবে, মহাপরিকল্পনা পর্যালোচনার পর পরিকল্পনাধীন কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল করা হতে পারে। চাহিদা না থাকায় বেসরকারি কেন্দ্র থেকে সরকার বিদ্যুৎ কিনছে না। কেন্দ্র ভাড়া  ও ভর্তুকি না দিয়ে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো উচিত।