সম্পাদকীয়

বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ুক প্রয়োজন মাফিক

বিশ্বের সব দেশই বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। গুরুত্ব বিবেচনায় আমাদের সরকারও ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো শুরু করেছে পাঁচ মিনিটেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিনব কর্মসূচি আলোর ফেরিওয়ালা। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্যকে অনেকটাই ম্লান করে দেয় এ খাতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়। ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।
প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথাও শোনা যাচ্ছে কিছুদিন ধরে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘ভারসাম্যহীন বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনায় বাংলাদেশ!’ সচেতন নাগরিকদের উদ্বেগ বাড়াবে বলেই প্রতীয়মান।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত খোদ রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ পরিকল্পনা পরিদফতরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে ১০০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন শুরু করেছে। এগুলোর সক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৯৪ মেগাওয়াট। ১৬ হাজার ১৬৮ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার আরও ৪৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মীয়মাণ। সংস্থাটির তথ্যমতে, দেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। যদিও গত ২৯ মে উৎপাদিত হয় সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৮৯৩ মেগাওয়াট। শীত মৌসুমে তা আট হাজারে নেমে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। তবে চাহিদা না থাকলেও নতুন বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ১৬ হাজার মেগাওয়াট যোগ হলে বসিয়ে রাখতে হবে অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পর্যায়ক্রমে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়। এতে স্বাভাবিকভাবে চাহিদার ১০ শতাংশ অধিক ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র রাখলেই চলে। সে অনুযায়ী বর্তমানে ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেই চলে। আর ২০২৩ সালে সম্ভাব্য চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন সক্ষমতা লাগবে ২২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। নির্মীয়মাণ বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে গেলে ২০২৩ সালে চাহিদার ৪৪ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি উৎপাদন হবে। এখন প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে না থাকলেও বেসরকারি খাতের এসব কেন্দ্রের জন্য মোটা অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ গুনতে হচ্ছে। এরপরও কেন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, আমাদের জানা নেই। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ই নয়, লোপাট হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। বিদ্যুৎ আর ১০টি পণ্যের মতো নয় যে, এটি সংরক্ষণ করে আপৎকালীন সময়ে ব্যবহার করা যায়। তাহলে কেন শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে? প্রয়োজনাতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বা লোপাট বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..