Print Date & Time : 9 May 2021 Sunday 2:16 pm

বিদ্যুৎ খাতে অলস বিনিয়োগ কাম্য নয়

প্রকাশ: March 3, 2021 সময়- 12:47 am

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে, তখন অগ্রাধিকারের পাঁচটি খাত চিহ্নিত করা হয়। এ পাঁচ খাতের মধ্যে অন্যতম ছিল বিদ্যুৎ খাত। কারণ ওই সময় বিদ্যুতের চাহিদার অনুপাতে সরবরাহ ছিল অনেক কম। কাজেই তখন এ খাতে জরুরিভিত্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। স্বল্পতম সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার বেসরকারি খাতকে বিদ্যুতে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করেছিল। এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে নানা সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হয়েছিল। ফলে দেশ বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি হয়, তাহলে কেন্দ্রগুলো অলস বসে থাকবে। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হবে বৈকি। তাই বিদ্যুৎ খাতে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া জরুরি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘পিডিবির প্রতিবেদন: ২০২৫ সালে অলস বসে থাকবে ১৫,৭৩৫ মেগাওয়াটের কেন্দ্র’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, এখনও নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। আবার দেশের বাইরে থেকেও কিছু বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। বর্তমানে অনেকগুলো কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে বিরত রয়েছে। কারণ চাহিদার অনুপাতে উৎপাদন সক্ষমতা বেশি।

বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৪১ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের যে গতি পরিলক্ষিত হয়েছে, তাতে ২০৪১ সাল নাগাদ বিদ্যুতের চাহিদা ওই পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। তবে চলমান করোনা মহামারি অনেক কিছুই পাল্টে দিয়েছে। এখন সব পরিকল্পনা নতুন করে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বৈকি। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ওই খাতের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।

বিদ্যুৎ খাতে একটি বাস্তবতা হলো, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অলস বসে থাকলেও তাদের ক্যাপাসিটি চার্জ ও ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। কাজেই অলস পড়ে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো রাষ্ট্রের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে বৈকি। তাই নতুন কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিদ্যুতের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, দেশের সব শ্রেণিপেশার নাগরিকদের পরিশোধ করা করের অর্থে সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে তাই জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত। বিদ্যুৎ খাত যেন কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় বোঝা না বাড়ায়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি। নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে নজর দেবেন বলেই বিশ্বাস।