প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বিদ্যুৎ বিতরণ মাশুল ৪৯% বৃদ্ধির প্রস্তাব ডিপিডিসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর দক্ষিণ অংশের গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ মাশুল কিলোওয়াট ঘণ্টাপ্রতি ৪৯ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। আগামী মাস থেকে এ হার কার্যকরের প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি পাইকারি (বাল্ক) বিদ্যুতের দাম বাড়লে পাস-থ্রো পদ্ধতিতে তাও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশন (টিসিবি) ভবনের অডিটোরিয়ামে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির গণশুনানিতে ডিপিডিসির পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব করা হয়। দিনের অপর শুনানিতে প্রায়ই একই ধরনের প্রস্তাব করে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)।

ডিপিডিসি ২০২০ সালের জানুয়ারি-ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যয় কিলোওয়াট ঘণ্টাপ্রতি এক টাকা ২৪ পয়সা করার প্রস্তাব করেছে। অপরদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি তা ৮৭ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। এর আগে ২০১৭ সালে প্রদত্ত মূল্যহারে বিদ্যুতের নিট বিতরণ ব্যয় ছিল ৮৩ পয়সা। অর্থাৎ ডিপিডিসি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যয় ৪৯ দশমিক ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করলেও কারিগরি কমিটি তা প্রায় পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।

বিদ্যুতের বিতরণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে অপচয় ও সম্পদের পরিবৃদ্ধি; জনবল, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছে ডিপিডিসি।

এদিকে গণশুনানিতে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম। তবে তিনি রাজধানী থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুতের দাম কম হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।

অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, রাজধানীর বসবাসকারীরা বিদ্যুতের যেসব সুবিধা ভোগ করেন, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ সে সুবিধা ভোগ করতে পারেন না। ঢাকায় যেভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসুবিধা দেওয়া হয়, গ্রামে বিদ্যুৎসেবা সে তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। তাই গ্রামে ও ঢাকায় বিদ্যুতের দাম এক হতে পারে না।

গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের দাম কমানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার মান রাজধানীবাসীর চেয়ে অপ্রতুল। ঢাকা ও গ্রামে বিদ্যুতের মূল্য কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ঢাকার মানুষকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ প্রদান করতে বিদ্যুৎ বিভাগের জনবল এবং অন্যান্য বিষয়ে খরচও বেশি হয়। সুতরাং এ খরচের টাকা রাজধানীবাসীর কাছ থেকে নেওয়া উচিত। এ টাকা গ্রামের মানুষের কাছ থেকে গ্রহণ করা অন্যায়। ঢাকা থেকে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুতের মূল্য অবশ্যই কম হওয়া উচিত।

এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে ১৫৮ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে ডিপিডিসির। ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিল পরিশোধ না করলে জানুয়ারিতে একসঙ্গে দুই সিটির সব বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে ভোক্তা নিরাপত্তা জামানত খাতের সম্পূর্ণ টাকা আলাদা ব্যাংক হিসাবে রাখা এবং সেই জামানতের ওপর যে সুদ আসবে, সেই সুদসহ গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেছে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।

উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার সময় প্রত্যেক গ্রাহককে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হয়। এই অর্থ বিতরণ কোম্পানিগুলো নিজেদের আয় হিসাবে বিবেচনা করে। কিন্তু আইন অনুযায়ী ভোক্তা বিদ্যুৎ লাইনটি ছেড়ে দিলে এই নিরাপত্তা জামানতের অর্থ ভোক্তাকে ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু কোনো বিতরণ কোম্পানি তা ফেরত দেয় না।

কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি শুনানিতে জানায়, ভোক্তা নিরাপত্তা জামানত খাতের সম্পূর্ণ অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা আবশ্যক। নিরাপত্তা জামানতের ওপর অর্জিত মুনাফাও একই ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরিত করা সমীচীন। এ হিসাবের মূল এবং মুনাফার অর্থের পৃথক পৃথক হিসাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে নিরাপত্তা জামানতের মুনাফা বিতরণ কোম্পানির আয় হিসাবে ‘অন্যান্য আয়’ খাতে প্রদর্শন করার বদলে ভোক্তাকে নিরাপত্তা জামানতের অর্থ মুনাফাসহ ফেরত দেওয়ার লক্ষ্যে পৃথক হিসাবে সংরক্ষণ করা সমীচীন। এ বিবেচনায় কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ভোক্তা নিরাপত্তা জামানত খাতের ৫১৯ কোটি সাত লাখ টাকার বিপরীতে ১৮ কোটি দুই লাখ টাকা ‘অন্যান্য আয়’ হিসাবে বিবেচনা করেনি।

এদিকে শুনানির শেষদিন আজ সকালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) এবং দুপুরে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) গ্রাহক পর্যায়ের মূল্যহার নিয়ে গণশুনানি হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..