বিদ্যুৎ বিল থেকে মুক্ত হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

মো. রুবাইয়াদ ইসলাম, হাবিপ্রবি: হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেসগুলোর বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ বিল অপসারণের মাধ্যমে। হাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থী বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় ক্যাম্পাসসংলগ্ন বাঁশেরহাট এলাকায় গড়ে ওঠে মেস বাণিজ্য। এখানকার শিক্ষার্থীরা বাণিজ্যিক রেটে বিদ্যুৎ বিল দিতেন, যা ছিল ব্যয়বহুল। হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম কামরুজ্জামানের হস্তক্ষেপে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে যাচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজ।

অধ্যাপক ড. ইমরান পারভেজ বলেন, ‘উপাচার্য শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের সব সমস্যা খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে আমলে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন মেসের বিদ্যুৎ বিল আবাসিকীকরণ করার কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। মেসের তথ্যাদি পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে এবং এরই মধ্যে একটি ফর্মে মেসগুলোর তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে হাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগ। আশা করা যাচ্ছে, চলতি মাস থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা আবাসিক বিদ্যুৎ বিলের সুবিধা পাবে। এ ব্যাপারে মেস মালিকদের দ্রুত সময়ের মাঝে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে আবাসিক বিদ্যুতের জন্য আবেদন করতে হবে এবং পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরবরাহকৃত তথ্য সংগ্রহের ফরমটি যথাযথভাবে পূরণ করে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগে জমা দিতে হবে। এরপর সব মেসের তথ্য যাচাই-বাছাই করে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগে তথ্য সরবরাহ করবে হাবিপ্রবি প্রশাসন। আশা করা যাচ্ছে, অতি অল্প সময়ের মাঝেই শিক্ষার্থীরা এ সমস্যা থেকে রেহাই পাবে।”

মেস মালিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘২০১২ সাল থেকে আকস্মিকভাবে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ আমাদের মেসগুলোকে বাণিজ্যিকীকরণ করে দেয়। এতে করে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমরা মেস মালিকরাও বিব্রতকর অবস্থায় পরে যাই। বিভিন্ন সময় দফায় দফায় পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করেও সমাধান হয়নি ওই সমস্যার। অবশেষে হাবিপ্রবি উপাচার্যের হস্তক্ষেপে ওই সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। এ কারণে হাবিপ্রবির উপাচার্য মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ বিল সমস্যার সমাধান হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হাবিপ্রবির পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোরসালিন মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ৯ বছর বিদ্যুৎ বিলের কাছে জিম্মি হয়ে ছিল।

উল্লেখ্য, মেসগুলো বাণিজ্যিক মিটারের আওতাধীন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ করছিলেন শিক্ষার্থীরা। দুই শতাধিক মেসে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ করত পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ। একাধিকবার হাবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও সমস্যাটির কোনো সমাধান হয়নি। বাণিজ্যিক পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীদের আবাসিক বিলের চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি বিল দিতে হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম সংগঠন হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি (হাবিসাস) ফেসবুক লাইভে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূরীকরণের লক্ষ্যে এ ব্যাপারে উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..