Print Date & Time : 23 October 2020 Friday 7:57 am

বিনা লাইসেন্সে গাড়িচালনাকে নিরুৎসাহিত করুন

প্রকাশ: January 25, 2020 সময়- 11:05 pm

সড়ক দুর্ঘটনা বিশ্বের সব দেশে হলেও আমাদের দেশে এর হার বেশি। প্রতিদিনই ঘটছে এ দুর্ঘটনা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদেরও মাঠে নামতে হয়। তখন বলা হয়েছিল, ‘শিক্ষার্থীরা যা চায়, সেগুলো আইনেই আছে।’ তবে আইনের কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় দুর্ঘটনা কমানো যাচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো সবার জানা। যেমনÑনির্দিষ্ট লেন ধরে গাড়ি না চালানো, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো, মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো, চালকদের বেপরোয়া গতিসহ ভুলপথে গাড়ি চালানো, যথেচ্ছা ওভারটেকিং প্রভৃতি। আর বেশিরভাগ দুর্ঘটনার পেছনেই থাকে প্রশিক্ষণবিহীন চালক।

আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ হচ্ছে আইন প্রয়োগে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও দুর্নীতি। চালকদের দক্ষতা বিচার করে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয় না। ফলে বিনা লাইসেন্সে অনেকে গাড়ি চালান বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সাম্প্রতিককালে এ অবস্থার কিছুটা হলেও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যের বরাত দিয়ে গত মঙ্গলবার শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স বছরে দ্বিগুণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন পাঠকের মনোযোগ কাড়বে।

জানা যায়, চট্টগ্রামে ২০১৮ সালে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু হয়েছিল সাড়ে ১৫ হাজার, যা ২০১৯ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ হাজার ৮৩৪টিতে। মূলত ২০১৮ সালে সারা দেশে ছাত্র আন্দোলনের পর থেকে এ চিত্র দেখা যাচ্ছে। এর আগে খুব বেশি তদারকি না হওয়ায় অনেক চালক বিনা লাইসেন্সে গাড়ি চালিয়েছেন।

অপেশাদার চালকদের লাইসেন্স গ্রহণ আশাব্যঞ্জক। লাইসেন্সধারীরা সাধারণত নিয়ম মেনে গাড়ি পরিচালনা করেন এবং মেয়াদ শেষে লাইসেন্স নবায়ন করেন। এর আগে আমরা লক্ষ করেছি, সড়ক দুর্ঘটনার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় গাড়ির ফিটনেস নেই, চালকের লাইসেন্স নেই এবং গণপরিহনের রুট-পারমিট নেই। এতে প্রমাণিত হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ে কোনো কারণে শৈথিল্য দেখিয়েছে। নতুন করে এমন ঘটনা যেন না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হতে হবে।  দুর্ঘটনা নিছক দুর্ঘটনাই; কিন্তু দুর্ঘটনার জন্য সেসব বিষয়কে দায়ী করা হয়, সেগুলোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গৃহীত না হলে দুর্ঘটনা কমবে না। সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটা নিত্যনৈমিত্তিক হওয়ায় এর কার্যকারণও আমাদের জানা।

বিনা লাইসেন্সে গাড়িচালনার পাশাপাশি লাইসেন্সধারীদের বেপরোয়া গতিতে গাড়িচালনাসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ এবং ট্রাফিক আইন কার্যকরে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে। পরিবহন খাতের অংশীজন এবং প্রশাসন ও সড়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যমান বিধান পরিপালন নিশ্চিত করা গেলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবেই। আর শৃঙ্খলা ফিরলে দুর্ঘটনা তথা প্রাণহানিও কমবে বলেই সবাই আশা রাখে।