মার্কেটওয়াচ

বিনিয়োগকারীদের সচেতন হতে হবে

বাজারে অনেক কোম্পানি রয়েছে, যাদের ইপিএস ভালো নয়, পিই রেশিও অনেক বেশি, উৎপাদনেও নেই। এসব কোম্পানি নিয়ে প্রতিনিয়ত পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। তারপরও বিনিয়োগকারীরা ওইসব শেয়ার কিনছেন। যে কোম্পানির শেয়ারের ফেসভ্যালু ১০ টাকা এবং সম্পদমূল্য পাঁচ টাকা, ওই কোম্পানির শেয়ার কেন ৪০ টাকায় কিনব? এসব শেয়ার কিনে লোকসানের মুখে পড়ে বিনিয়োগকারীরা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দোষারোপ করা শুরু করেন। আসলে এখানে বিনিয়োগকারীদের আরও সচেতন হতে হবে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক হাসান মাহমুদ বিপ্লব এবং পুঁজিবাজার বিশ্লেষক মোহাম্মদ সাব্বির আহমেদ, এফসিএ।

হাসান মাহমুদ বিপ্লব বলেন, বাজার কীভাবে ভালো হবে? গত ৯ বছরে দু-চারটা কোম্পানি ছাড়া তেমন কোনো ভালো কোম্পানি বাজারে আসেনি। যার কারণে পুঁজিবাজারে টেকসই উন্নয়ন হয়নি। বাজারে ভালো ইস্যু আনলে দেখবেন বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। ২০০৯ সালে যখন গ্রামীণফোন বাজারে আসে, তখন ভালো একটি মুভমেন্ট দেখা গেছে। যদি এখন এ ধরনের কোম্পানি বিশেষ করে কোকা-কোলা, ইউনিলিভার ও রাষ্ট্রায়ত্ত ভালো কোম্পানি আসে, তাহলে  দেখা যাবে বাজার এমনিতেই পরিবর্তন হয়ে যাবে। কারণ, তখন বিদেশি বিনিয়োগসহ দেশের সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বেড়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, কোম্পানি তালিকাচ্যুতির নিয়ম-কানুন আরও শক্তিশালী করা দরকার। যখন একটি কোম্পানি তালিকাচ্যুত করা হয়, তখন ওই কোম্পানির মালিকরা বেঁচে যান। এ ব্যাপারে তাদের কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিনিয়োগকারী। অথচ তালিকাচ্যুত কোম্পানির মালিকরা এখন দামি গাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর বিনিয়োগকারীরা অর্থ হারিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছেন। তাই কোনো কোম্পানি তালিকাচ্যুত করার পর যাতে বিনিয়োগকারীরা অর্থ ফেরত পানÑতার ব্যবস্থা করতে হবে। 

তিনি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, বাজারে অনেক কোম্পানি রয়েছে, যাদের ইপিএস ভালো নয়, পিই রেশি অনেক, উৎপাদনে নেই, কোনো বোনাস লভ্যাংশও দেয় না। এসব কোম্পানি নিয়ে প্রতিনিয়ত পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। কিন্তু তারপরও বিনিয়োগকারীরা ওইসব শেয়ার কিনে থাকেন। এসব শেয়ার কিনে লোকসানের মুখে পড়ে বিনিয়োগকারীরা দোষারোপ করা শুরু করেন। আসলে এখানে বিনিয়োগকারীদের আরও সচেতন হতে হবে।

মোহাম্মদ সাব্বির আহমেদ বলেন, কোনো কোম্পানি তালিকাচ্যুত করার পর ওই কোম্পানির মালিকরা বেঁচে যাচ্ছেন। আর এতে লোকসান গুনছেন বিনিয়োগকারীরা। তাই এখন সময় এসেছে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..