মার্কেটওয়াচ

বিনিয়োগকারীরা ধীরে ধীরে বাজারমুখী হচ্ছেন

সম্প্রতি কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পুঁজিবাজার। যে কারণে বাড়ছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর। একইভাবে সূচকেরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সরকারি অর্থছাড়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যে কারণে বাজারমুখী হতে শুরু করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে আলোচকদের আলোচনায় এমন তথ্য ওঠে আসে।

খুজিস্তা নুর-ই-নাহারিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিডিনিউজ ২৪ ডটকমের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিবেদক আবদুর রহিম হারমাছি এবং কালের কণ্ঠের সিনিয়র বিজনেস এডিটর ফারুক মেহেদী।

অনুষ্ঠানে আবদুর রহিম হারমাছি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কিছু হস্তক্ষেপে পুঁজিবাজারে এখন কিছুটা আস্থা ফিরে আসছে। যারা বাজারবিমুখ ছিলেন তারা এখন ধীরে ধীরে বাজারমুখী হচ্ছেন। তবে একেবারে আস্থা ফিরে আসছেÑতা বলা যাবে না। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ বাজারের শেষ পর্যায়ে এসে এমন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে তিনি। তবে এ স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদির পরিকল্পনার পাশাপাশি আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাজার যে খারাপ অবস্থা ছিল, এটি ২০১০ সালের বাজার ধসের কোনো অংশে কম নয়। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম বাজার এ রকম অবস্থা কেন হলোÑএর  একটি সুষ্ঠু তদন্ত হবে। যদি এ বিষয়ে একটি সুষ্ঠু তদন্ত হতো তাহলে বাজার আরও ভালো হতো।  আবার শুধু প্রণোদনার জন্য তাকিয়ে থাকলে হবে না। এখানে যেসব কোম্পানিরগুলো রয়েছে। ওইসব কোম্পানির স্পন্সর বা মালিকদের বাজারে একটি দায়বধ্যতা রয়েছে।

অন্যদিকে ফারুক মেহেদী বলেন, পুঁজিবাজারের প্রধান সূচক ছয় হাজার থেকে প্রায় চার হাজার সূচকে নেমে এসেছিল। এটি নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি বাজার স্থিতিশীল করার তিনি ছয়টি নিদের্শনা দিয়েছেন। ফলে বাজার একটি ইতিবাচক দেখা যাচ্ছে। ২০১০ সালের বাজার ধসের পর বাজার ভালো করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং কিছু সুপারিশ করা হয়েছিল। সেগুলোর কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে কিছু বিষয় সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু যে অর্থে বাজার একটি গুণগতমানের অবস্থায় দেখার কথা ছিল সেটি দেখতে পাচ্ছি না। শুধু যে সূচক ও লেনদেন বাড়বে তা নয়। বিশ্বের কোনো একটি পুঁজিবাজারের অবস্থানে যেতে পারিনি। সত্যিকার অর্থে, বাজারকে টেকসই করতে হবে। এক সপ্তাহ বাজার ভালো থাকল আবার বাজার আগের মতোই নি¤œগতি ধারায় বজায় রইলÑএটা যাতে নয়। যাতে বাজার ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকে। তবে হ্যাঁ, বাজার ওঠানামা করবেÑএটাই বাজারের ধর্ম। কিন্তু সে ওঠানামার মাত্রা থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার দু-একটি বিষয় দিয়ে ভালো করা যাবে না। এখানে  প্রয়োজন বাজারসংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ। আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত ইউনিলিভার কোম্পানিটি বাজারে আসবে। যদি এসব কোম্পানি বাজারে আনতে হয় তাহলে তাদের প্রণোদনাসহ আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে  একদিকে দেশ-বিদেশের সুনাম অর্জিত হবে। তখন বিদেশি বিনিয়োগকারী বাজারমুখী হতে শুরু করবে। শুধু তাই নয়, দেশের সব ধরনের বিনিয়োগকারীর মধ্যে আস্থা তৈরি হবে। এর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ বাজারে মানসম্মত কোম্পানি নেই। মানহীন কোম্পানি বাজারে আনা হচ্ছে। এখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ফলে বাজার, দেশের ও সব ধরনের বিনিয়োগকারীর জন্য ভালো হবে। অর্থাৎ একটি টেকসই বাজারের জন্য ভালো হবে।   

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..