বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় গন্তব্য বাংলাদেশ

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও বিডার ওয়েবিনারে বক্তারা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় দেশ বলে উল্লেখ করেছেন বক্তারা। তারা বলছেন, বাংলাদেশ দ্রুতই অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশটি মহামারির এ অস্থিতিশীল অবস্থায়ও প্রবৃদ্ধির হার পাঁচ দশমিক ২৪ শতাংশ পর্যন্ত ধরে রেখেছে। এক বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে ‘শোকেস বাংলাদেশ: চায়না-বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ শীর্ষক ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্মেলনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্ভাব্য অংশীদারিত্বের সুযোগ ও পরিবর্তনশীল ভৌগোলিক ল্যান্ডস্কেপের মধ্যেও কৌশলগত সুযোগ সৃষ্টির বিষয় তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গে চীনের সরকারি-বেসরকারি নীতিনির্ধারণ, বিনিয়োগ, ব্যাংক ও অর্থনীতি খাতের চার শতাধিক প্রতিনিধি এ সম্মেলনে যোগ দেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা এবং দেশের জন্য কাক্সিক্ষত বৈশ্বিক বিনিয়োগ নিয়ে আসতে একসঙ্গে কাজ করার লক্ষ্যে যৌথ সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বিডা।

ওয়েবিনারে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি আরএমজি, চামড়া, ঔষধ প্রস্তুতকারক খাত/এপিআই ও মেডিকেল সরঞ্জাম, সফটওয়্যার ও আইটি, এগ্রো ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, মটরযান ও জাহাজ নির্মাণ খাতে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের সুযোগের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

বিডাপ্রধান আরও বলেন, বাংলাদেশ দ্রুতই অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশটি মহামারির এ অস্থিতিশীল অবস্থায়ও প্রবৃদ্ধির হার পাঁচ দশমিক ২৪ শতাংশ পর্যন্ত ধরে রেখেছে। বিডা তার বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে আরও উন্নত বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরিতেও কাজ করে যাচ্ছে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের সিইও নাসের এজাজ বিজয় বলেন, যেহেতু বর্তমানে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিকভাবে তাদের পরিধি বর্ধনে নতুন ঠিকানার সন্ধান করছে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যকার এ অংশীদারিত্ব, শতাব্দীপ্রাচীন বন্ধুত্ব ও পরিচিতির কল্যাণে নতুন ও অনাবিষ্কৃত সুযোগ সন্ধানের এক অনন্য প্রতিশ্রুতি রাখে। এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য ব্যাংক, বিনিয়োগকারী ও সরকারের মধ্যকার অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ।

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, এ ধরনের সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ সুবিধা উভয় দেশের অর্থনীতির টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করতে জ্ঞানের সর্বোচ্চ ব্যবহারে সক্ষম করে তুলবে। তিনি আরও বলেন, সমৃদ্ধ যোগাযোগের জন্য মাল্টিমোডাল সংযোগ এবং শক্তিশালী বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশকেই লাভবান করবে।

বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথোরিটির (বিইজেডএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, এরই মধ্যে আমরা বাংলাদেশে ২৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। জমি ও শিল্প কাঠামোগত সহজলভ্যতা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা যেন বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বজায় রাখেন, সেজন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেবার উন্নয়ন চলমান রয়েছে।

চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান বলেন, ৯৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ও অন্যান্য সুবিধার কারণে চীনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ লক্ষ করেছি। আশা করছি, চীনের সমর্থন ও সহযোগিতা আমাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার পথে সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, আমাদের সরকার বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশের জন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ প্রদানে উৎসাহী। বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগ নীতিমালা ও ছাড় এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করে। আমরা চীনকে একটি শক্তিধর সহযোগী বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে মনে করি। আমরা আশা করি মুজিব শতবর্ষ চলাকালে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার এ বিনিয়োগ সহযোগিতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..