প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিও পতন ঠেকাতে পারেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক মাসে দেশের পুঁজিবাজার পতনের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা সব সময় করলেও সফলতা মিলেছে সে তুলনায় অনেক কম। গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে সাড়ে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে লেনদেনও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহেও বড় মূলধনি খাতগুলোর অধিকাংশের শেয়ারদর বৃদ্ধি পেলেও সব সূচকের পতন হয়েছে। অপরদিকে গত এপ্রিলে একক মাস হিসেবে সবচেয়ে বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ডিএসইতে। এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি ডিএসইর সূচকগুলো।
তথ্যমতে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সূচক কমেছে গত সপ্তাহে ১০ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ। ডিএস৩০ সূচক কমেছে ১৯ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বা এক দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। এছাড়া শরিয়াহ্ সূচক ডিএসইএস কমেছে চার দশমিক ৬৭ পয়েন্ট।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৫৩টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়। এ সময় শেয়ারদর বেড়েছে ১৫২টির বা ৪৩ শতাংশ, কমেছে ১৭৯টির বা ৫০ দশমিক ৭১ শতাংশ, দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির। এছাড়া লেনদেন হয়নি দুটি সিকিউরিটিজের।
এ সময়ে ডিএসইতে লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এর কোনো প্রভাব পড়েনি শেয়ারদরে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদরে পতন হওয়ায় কমেছে বাজার মূলধন।
এ সময়ে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ২৮৫ কোটি টাকা। খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে বড় মূলধনি খাতগুলোর প্রায় সব কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। এ সময়ে শুধু পতন হয়েছে টেলিকম খাতের শেয়ারদর। খাতটিতে গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ পতনের হার এক দশমিক এক শতাংশ।
জানা গেছে, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার ও প্লেসমেন্টের শেয়ারগুলো বিক্রি হয়েছে এপ্রিল মাসজুড়ে। ফলে চলতি বছরের হিসাবে এখনও সবচেয়ে বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে এপ্রিলে। এত পরিমাণের শেয়ারের চাপ নিতে পারেনি বাজার। ফলে হাতবদল হলেও শেয়ারের দর কমেছে। পতনের ধারবাহিকতায় ঘুরপাক খাচ্ছে বাজার। তথ্যমতে, প্রচুর পরিমাণে শেয়ার হাতবদল হওয়ায় একক মাস হিসাবে ডিএসইর কর আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৪ শতাংশ।
সাময়িকভাবে সরকারি কোষাগারে কিছু অর্থ যোগ হলেও দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। পতনের বৃত্ত থেকে পুঁজিবাজারকে বের করে আনতে দফায় দফায় বৈঠক করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। অংশীজনের সঙ্গেও বৈঠক করা হয়েছে। এমনকি পুঁজিবাজার নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে, কিন্তু তারপরও আশু কোনো প্রভাব পড়েনি। পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে এখন সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে আসন্ন বাজেটে। এত কিছুর পরও বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। ফলে বাজার নিয়ে খুব দ্রুতই কোনো ভালো সংবাদ আশা করা সুযোগ নেই বলে মনে করেন তারা।
লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের মোট লেনদেনের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ছিল প্রকৌশল খাতের শেয়ারের। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অংশগ্রহণ ছিল ৯ শতাংশ। এছাড়া ওষুধ খাতের ১১ শতাংশ, বস্ত্র খাতের খাতের ১৩ শতাংশ, ব্যাংক খাতের ১০ শতাংশ, জীবন বিমা খাতের এক শতাংশ, আইটি খাতের চার শতাংশ, সিমেন্ট খাতের চার শতাংশ ও অন্যান্য খাতের অংশগ্রহণ ছিল সাত শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনের পাশাপাশি একক কোম্পানি হিসেবে ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ গেইনার নিয়ে শীর্ষে ছিল ন্যাশনাল ফিড মিল লিমিটেড। এর পরই দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল এসএস স্টিল। কোম্পানিটি সপ্তাহ শেষে ২৬ দশমিক শূন্য চার শতাংশ ও তৃতীয় হিসেবে অলিম্পিক এক্সেসরিজ ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ অবদান রাখে লেনদেনে।
অপরদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে শেয়ারদর হারানোর তালিকায় প্রথম অবস্থানে ছিল ইস্টার্ন ব্যাংক। কোম্পানিটি গত সপ্তাহে শেয়ারদর হারায় ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর পরই রয়েছে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ও সেন্ট্রাল ফার্মসিউটিক্যালস লিমিটেড। এছাড়া টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ফরচুন শুজের শেয়ার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..