সাক্ষাৎকার

বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরছি

আগামী ১ সেপ্টেম্বর তৃতীয় বর্ষে পা দিচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগ বোর্ড ও বেসরকারিকরণ কমিশনকে বিলুপ্ত করে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিডা’র আত্মপ্রকাশ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন কাজী আমিনুল ইসলাম। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিশ্বব্যাংকে বিকল্প নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। দেশ ও দেশের বাইরে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বিডা’র কার্যক্রম, উদ্যোগ, সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন শেয়ার বিজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ

শেয়ার বিজ: প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিডা কী কী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে?

কাজী আমিনুল ইসলাম: দেশের ভেতরে বিনিয়োগ ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণই বিডা’র প্রধান কাজ। বিনিয়োগ প্রমোট করতে চাইলে দেশের ইমেজ বা ভাবমূর্তি ইতিবাচকভাবে দেশের বাইরে তুলে ধরতে হয়। এখনও বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশিদের মাঝে নানা ভুল ধারণা আছে। স্পেন থেকে বেশ কিছু মানুষ ইদানীং বাংলাদেশে আসছে। তারা বলছে, পাঁচ থেকে সাত বছর বাংলাদেশে ব্যবসার সুযোগ হারিয়েছে তারা। মূলত তারা খবরের কাগজ ও ইন্টারনেটে দেশের পরিস্থিতি দেখে। এসব মাধ্যমে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও সহিংসতার খবরই বেশি ছড়ায় বলে তারা জানান। তা দেখে তারা বাংলাদেশে আসতে সাহস পাননি। কিন্তু এখন তারা এসেছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের ভুল ধারণা ছিল। আরও আগেই তাদের আসা উচিত ছিল। তারা জানিয়েছেন, খুব সহজেই কোনো ঝামেলা ছাড়া ঢাকায় কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছি। দেশের ভাবমূর্তি উন্নত করা এবং তা দেশের বাইরে প্রচার করাই আমাদের প্রধান কাজ। যাতে বিদেশিরা এদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে আগ্রহী হয়। এছাড়া যারা বিনিয়োগ করতে চায়, তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়াও আমাদের অন্যতম প্রধান কাজ।
অনেক কথা শোনা যায় যে, বিনিয়োগকারীদের নানা কাজে এখান থেকে ওখানে যেতে হয়, টাকা-পয়সা খরচ করতে হয়। কিন্তু আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই যেন দ্রুততম সময়ে তারা সব প্রয়োজনীয় সেবা পান, আমরা সে ব্যবস্থাই করেছি। বিডা যেহেতু একটি নতুন সংস্থা, এ সংস্থাটিকে ফাংশনাল (কর্মমুখর) করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এটি ছাড়া বিডাকে কার্যকর করা খুবই কষ্টসাধ্য। প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বমানে উন্নীত করে গড়ে তোলার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার বিজ: বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বিডা’র উদ্যোগগুলো কী কী?

কাজী আমিনুল ইসলাম: বিনিয়োগের জন্য একটি পরিবেশ প্রয়োজন। বাংলাদেশে যাতে বিশ্বমানের একটি বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি হয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেন এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হন, সে সঙ্গে দেশীয় বিনিয়োগকারীরাও যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে বেশি বিনিয়োগ করতে পারেন, সেজন্য আমরা একটি বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টিতে মনোযোগ দিয়েছি। বিশ্বব্যাংকের র‌্যাংকিং অনুযায়ী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও ১৭৭তম। কাজেই এ অবস্থান থেকে আমাদের উঠে আসতে হবে। সে কথা মাথায় রেখেই আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিনিয়োগ ও ব্যবসার জন্য বেশ কিছু সংস্কার কাজ হাতে নিয়েছি। তাতে প্রায় ২৭টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থা যুক্ত আছে, যাতে এগুলোর মাধ্যমে বিনিয়োগ সেবাগুলো দ্রুততম সময়ে ও দক্ষতার সঙ্গে দেওয়া যায়। যারা বিনিয়োগ করবেন, তাদের কাছে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য আমরা উপস্থাপন করছি। বিডা’র ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে নানা তথ্য দেওয়া আছে।
আমাদের আরেকটি কাজ হলো দেশের ইতিবাচক চিত্র বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরা। আগে আমরা বিদেশিদের বলতামÑআমরা এটা চাই, ওটা চাই, আমাদের দাও। আর এখন আমরা তাদের জিজ্ঞেস করি তারা কি চায়, আমরা তাদের দেব। আমরা তাদের আমাদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাই। পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করপোরেট বিনিয়োগে লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। আশেপাশের দেশ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডের তুলনায় আমাদের দেশে বিনিয়োগে লাভের সম্ভাবনা বেশি, লাভের পরিমাণও বেশি। বাংলাদেশের এ অমিত সম্ভাবনার বিষয়গুলো আমরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরছি।
বিনিয়োগ সেবার জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস খুবই কার্যকর। কিন্তু আমরা এখনও তা চালু করতে পারিনি। কিন্তু আশার কথা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী একটি আইন করতে বলেছেন এবং এরই মধ্যে সেটি পাস হয়েছে। এটি হলো ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস অ্যাক্ট’। এ আইন কার্যকর হলে যারা বিনিয়োগসেবা দেবেন, এসব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের আইন, নিয়ম-কানুন, প্রথা-পদ্ধতি যা-ই থাকুক না কেন, ওয়ানস্টপ সার্ভিসের অধীনে সব প্রতিষ্ঠান এ সেবাগুলো নিশ্চিত করবে। আমরা একটি অনলাইন ডেটাবেজ তৈরি করছি, যেটি হয়ে গেলে বিনিয়োগকারীদের এখানে আসতে হবে না। তারা ঘরে বসেই সব সুবিধা ও তথ্য পেতে পারবেন।

শেয়ার বিজ: আঙ্কটাডের ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদন বলছে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে কমেছে বিদেশি বিনিয়োগ। অথচ বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকারের অনেক উদ্যোগের পরও গত বছর তা কমে যাওয়ার কারণ কি বলে মনে করেন?

কাজী আমিনুল ইসলাম: আসলে ওই সময় বিশ্বব্যাপীই বিনিয়োগে মন্দা ছিল। সারা বিশ্বেই বিনিয়োগ কমেছে। আর যে তথ্যটি দেওয়া হয়েছে, সেটি মূলত আরও দুবছর আগের। কিন্তু সামনে যেটি আসবে, সেটিতে বাংলাদেশের চিত্র আরও ভালো থাকবে। প্রচুর বিনিয়োগ নিবন্ধন হচ্ছে। দিনদিনই বিনিয়োগ নিবন্ধনের পরিমাণ বাড়ছে। আমরা সামনের দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে আছি। বিভিন্ন দেশে গিয়েছি। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। আশা করি, সামনের দিনগুলোয় এ অবস্থা থাকবে না।

শেয়ার বিজ: প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিডা কোন কোন ক্ষেত্রে সফল হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

কাজী আমিনুল ইসলাম: বিডা সৃষ্টির পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেছি। মানুষের মাঝে একটি ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক ধারণা জšে§ছে যে, এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকার বিনিয়োগ সেবা সহজলভ্য করবে; যাতে তারা বিনিয়োগ করতে পারে। আমরা বিনিয়োগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সুযোগ-সুবিধার বার্তা দেশের বাইরে নিয়ে যাচ্ছি। যেসব খাতের বিনিয়োগ আগামী দিনে বাংলাদেশের উন্নয়নের উচ্চ শিখরে নিয়ে যাবে, আমরা সেসব খাতের দিকে বেশি নজর দিচ্ছি। আমার বিশ্বাস, ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আমরা আশার সঞ্চার করতে পেরেছি। বিদেশিদের আগ্রহী করতে পেরেছি। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পরিচয় করিয়ে দিতে পেরেছি। সিঙ্গাপুর, ভারত, জাপান, শ্রীলঙ্কা থেকে বড় মানের বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছি। আমরা বিনিয়োগ ও এসডিজি’র ধারণাটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। বিনিয়োগকে স্থানীয়করণের চেষ্টা ও পদক্ষেপ নিয়েছি। একেকটি জেলা একেক রকমের ব্র্যান্ডিংয়ে রয়েছে। একেকটি জেলার একেক ধরনের বিনিয়োগ সুবিধা রয়েছে। প্রত্যেক জেলার বিনিয়োগ সুবিধা ব্যবহার করে আমরা বিনিয়োগকে কীভাবে চাঙা করতে পারি এবং আরও বেগবান করতে পারি, সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

শেয়ার বিজ: বিডার কার্যক্রম ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কী?

কাজী আমিনুল ইসলাম: চ্যালেঞ্জ তো আছেই। চ্যালেঞ্জের কোনো শেষ নেই। মূল চ্যালেঞ্জ হলো লোকবল। কাজের পরিধি বাড়ছে; কিন্তু সে অনুপাতে লোকবল বাড়ছে না। আমরা সরকারের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান; কিন্তু কাজ করি বেসরকারি খাত নিয়ে। কাজেই দেশি-বিদেশি বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমাদের ভিন্ন ধরনের জ্ঞান দরকার, ভিন্ন ধরনের দক্ষ জনবল দরকার। বিডাকে সত্যিকার অর্থেই একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে দক্ষ লোকবলের দিকে। ইতোমধ্যেই আমাদের ওয়ার্ক প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করতে পেরেছি। আমরা এক বছরের মাথায় এটি করতে পেরেছি। কর্মধারায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ বেসরকারি খাত ও বিদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনেক দ্রুতগতিতে চলতে হয়। কাজেই প্রয়োজনীয় ও দক্ষ লোকবলই বড় চ্যালেঞ্জ। আশা করি খুব শিগগিরই সেটি হবে।

শেয়ার বিজ: সরকারের ভিশন-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে বিডা কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে বলে আপনার মনে হয়?

কাজী আমিনুল ইসলাম: ২০২১ সালের মধ্যে আমরা উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশ হতে চাই; অর্থাৎ মাথাপিছু আয় ৪০০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে হবে। আর ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশ হতে চাই; অর্থাৎ আমাদের মাথাপিছু আয় ১৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে হবে। সামনে উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ, সে সঙ্গে আছে এসডিজি। ২০৩০-এর মধ্যে এসডিজি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে। এসডিজির অর্থই হচ্ছে উন্নয়নের যে গুণগত মান আছে, সেগুলো আমাদের অর্জন করতে হবে ২০৩০-এর মধ্যে। এ তিনটি চ্যালেঞ্জই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেক কর্মযজ্ঞ রয়েছে। যে কোনো উন্নয়ন হলেই হবে না, উন্নয়ন টেকসই ও গুণগত মানসম্পন্ন হতে হবে। এমন বিনিয়োগ হতে হবে, যে বিনিয়োগ গুণগত দিক নিশ্চিত করে। এমন বিনিয়োগ হতে হবে যাতে উন্নত কর্মকাণ্ডে যাওয়া যায়। ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে কী ধরনের বিনিয়োগ দরকার সে বিষয়ে আমরাও কাজ করছি। এসডিজি অর্জনের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে। সরকার উন্নয়নের যে মডেল নিয়েছে, সেটি হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ)। এর অর্থ হলো বাইকে উন্নয়নের মধ্যে রাখা। কাউকে পেছনে রেখে উন্নয়ন নয়। আমরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এ মূলমন্ত্রকেই ব্যবহার করেছি। তাই আমরা বিনিয়োগকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যেতে চাই। বিনিয়োগের ধারণাটি সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী দিনের উন্নত বাংলাদেশের জন্য ভিন্নতর উদ্যোক্তার প্রয়োজন হবে, যারা বুদ্ধিবৃত্তিক ও প্রযুক্তিভিত্তিক চর্চার মাধ্যমে বিনিয়োগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে। একদিকে বিনিয়োগ সেবা দিচ্ছি, অন্যদিকে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছি, বিনিয়োগের ধারণা সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছি।

শেয়ার বিজ: আমাদের দেশে অবৈধভাবে অনেক বিদেশি কাজ করে উপার্জিত অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে নিজ দেশে নিয় যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে বিডা’র কোনো উদ্যোগ আছে কী?

কাজী আমিনুল ইসলাম: বাংলাদেশে একটা বড় ধরনের গতি পেয়েছে উন্নয়নের। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বাড়ছে। সবক্ষেত্রেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ অগ্রগতির জন্য দক্ষ লোকবলের প্রয়োজন হয়েছে। এখনও দক্ষ লোকবল দরকার। যে লোকবলের দক্ষতা বাংলাদেশের ভেতরে নেই, সেই দক্ষতা বাইরে থেকে নিয়ে এসে আমরা আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধি করছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা দক্ষ জনবলের দিক দিয়ে পিছিয়ে আছি। আর এই পিছিয়ে থাকার কারণেই বাইরে থেকে মানুষ এসে এখানে কাজ করছে। যারা বৈধভাবে আসছে, তারা আমাদের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখছে। তাই দেশের কথা চিন্তা করেই আমরা বিদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ দেশে কাজের অনুমতি দিয়ে থাকি। তারা যেটা নিচ্ছে, সেটা তাদের পারিশ্রমিক হিসেবেই নিচ্ছে। তারা আমাদের উৎপাদনশীলতাকে গতি দিচ্ছে। কখনও কখনও পত্রপত্রিকায় দেখা যায়, অবৈধভাবে কিছু বিদেশি বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছেন। আমরা এ ব্যাপারে খুবই কঠোর অবস্থানে আছি। কোনো অভিযোগ পেলেই সেটি খতিয়ে দেখি। কোনো অবৈধ বিদেশিকে যেন কোনো প্রতিষ্ঠান কাজে না নেয়, সে জন্য আমরা প্রচার ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শেয়ার বিজ: বিদেশি ও দেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বিডা’র উদ্যোগগুলো পৃথকভাবে বলবেন কী?

কাজী আমিনুল ইসলাম: বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ এখন বিদেশ। এখানকার মানুষ, ভাষা, পরিবেশ সবই তাদের জন্য নতুন। তাই এ দেশের ব্যাপারে তাদের যা যা তথ্য দরকার, তা আমরা তাদের সরবরাহ করি। যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, যাদের সঙ্গে দেখা করা প্রয়োজন, আমরা পূর্ণ চেষ্টা করি সেটির ব্যবস্থা করার। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা যখন বাংলাদেশে আসেন, তখন আমরা সব ধরনের তথ্য ও সেবা দিয়ে থাকি, অন্যান্য সাপোর্ট দিয়ে তাদের আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করি। তারা যখন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আমরা তাদের বিনিয়োগকালীন সেবা দিয়ে থাকি। আমাদের এখান থেকে যা যা সেবা দেওয়া যায়, তার সবই দিই। সে সঙ্গে অন্যান্য দফতর থেকেও সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিই। দেশীয় উদ্যোক্তারাও যেন কোনো ধরনের অসুবিধায় না পড়েন, তারাও যেন স্বাচ্ছন্দ্যে বিনিয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়টিও আমরা দেখি। আমাদের উদ্যোক্তারাও যেন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান, অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুবিধা পানÑসেটি নিশ্চিতের চেষ্টা করি।

শেয়ার বিজ: নতুন উদ্যোক্তারা অনেক সমস্যায় পড়েন। সেক্ষেত্রে বিডা কি করছে?

কাজী আমিনুল ইসলাম: এটা ঠিক, নতুন উদ্যোক্তারা কিছু সমস্যার সম্মুখীন হন। কিন্তু বর্তমান সরকার নতুন উদ্যোক্তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সে জন্য জমিপ্রাপ্তিতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে এবং আরও হবে। আগের চেয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেক বেড়েছে। বিদ্যুৎ এখন সহজলভ্য। আগে যেখানে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ পেতে ৪০০ দিন সময় লাগত, সেখানে এখন তা চার সপ্তাহেই হয়ে যাচ্ছে। গ্যাস এখন আগের চেয়ে সুলভ। গ্যাস সংকট যেন না হয়, সে জন্য এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে। শিগগিরই তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয়টির কাজ চলমান আছে। এ তিনটি যখন হয়ে যাবে, তখন দীর্ঘ সময় এ দেশে এনার্জির কোনো সমস্যা থাকবে না। নতুন উদ্যোক্তাদের অন্যান্য সমস্যা নিয়েও সরকার ওয়াকিবহাল। নতুন উদ্যোক্তারা যেন আর্থিক কোনো সমস্যায় না পড়েন, সেজন্য একটি ফান্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি নতুন উদ্যোক্তারা অর্থের জন্য কোনো সমস্যায় পড়বেন না। বিডা’র উদ্যোগেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার বিজ: আপনাকে ধন্যবাদ।

কাজী আমিনুল ইসলাম: শেয়ার বিজকেও ধন্যবাদ।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..