বাজার বিশ্লেষণ মার্কেটওয়াচ

বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম কতটা কার্যকর হয়েছে?

কয়েক বছর ধরে বিএসইসি বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিনিয়োগ শিক্ষা বা যে কোনো শিক্ষাই উপকারী। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে কোন বিষয়টির প্রয়োজন আগে বা পরে সেটিও বিবেচনা করতে হবে। যখন নতুন একটি কোম্পানি ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে বাজারে অন্তর্ভুক্ত হয় তখন বিনিয়োগকারীরা ভালো দেখেই সে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন। কিন্ত হঠাৎ করে সেটি খারাপ অবস্থানে চলে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীরা লোকসানে পড়েন। গত পাঁচ বছরে বিনিয়োগকারীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাহলে বিনিয়োগ শিক্ষা তাদের কতটা কাজে আসছে বা এর গ্রহণযোগ্যতা কতটা? গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফিনিক্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সাবেক এমডি এ কাদির চৌধুরী এবং অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ হেলাল।
এ কাদির চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাজার যে পদ্ধতিতে এগোচ্ছে, তাতে ভালো হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিনিয়োগকারীর আস্থার সংকট, ইনসাইডার ট্রেডিং ব্যাপকভাবে হচ্ছে। এছাড়া ভালো শেয়ারের অভাব প্রকট। বর্তমানে বেশিরভাগই নিম্নমানের কোম্পানি। ভালো কোম্পানি আনা যাচ্ছে না। এছাড়া আরও বিভিন্ন উপায়ে বাজারে কারসাজি চলছে। এ বিষয়গুলো যদি সমাধান করা না যায়, তাহলে বাজার কীভাবে ভালো হবে? কথা হচ্ছে এ বিষয়গুলো কারা দেখবে? সর্ষের ভেতর ভূত থাকলে সেটা তাড়াবে কে। এখন সময় এসেছে এখান থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করার। যখন নতুন একটি কোম্পানি বাজারে অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন ওই কোম্পানির পারফরম্যান্স অনেক ভালো দেখায়। বিশেষ করে ইপিএস, পিই রেশিও এবং ভালো ভালো প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। কোম্পানি ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত করা হবে। বাস্তবে দেখা যায়, কোম্পানিটি এক থেকে দু’বছরের মধ্যে দুর্বল কোম্পানিতে পরিণত হয়। কেন বা কী কারণে বাজারে আসার পরই কোম্পানিটি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে? এ পর্যন্ত বাজারে অনেক কোম্পানির এ অবস্থা হয়েছে। তাহলে বিএসইসি ও ডিএসই নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কী করছে? অন্যদিকে শেয়ারদর বেড়ে গেলে ঠিকই সেটি নিয়ে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু বাজারে কোম্পানিগুলো এ অবস্থা কেন হচ্ছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা কয়টি কোম্পানি পর্যবেক্ষণ করেছে? এখানেই প্রশ্ন। যদি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করত তাহলে বাজারের এ অবস্থা হতো না।
ড. মোহাম্মদ হেলাল বলেন, কয়েক মাসে বাজার নিম্নগতিতে রয়েছে। মাঝে মাঝে দু-একদিন একটু ইতিবাচক দেখা যায় কিন্তু আবার নেতিবাচক অবস্থায় ফিরে আসে। কেন বাজারে দীর্ঘ মেয়াদে এ সমস্যাটা রয়েছে। এটি যদি সঠিকভাবে চিহ্নিত করা না যায়, তাহলে মাঝে মাঝে বাজার ইতিবাচক হবে আর বেশিরভাগ সময়ে খারাপ অবস্থায় থাকবে। ২০১০ সালের পর বাজারে ইকুইটির পরিমাণ তিনগুণ বেড়েছে এবং এখনও বাজারে ইকুইটি অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। কিন্তু বিনিয়োগকারী বাজারে আসছে না। বাজার ভালো করতে হলে বিনিয়োগকারী আনতে হবে। শুধু ব্যাংক থেকে ফান্ড এলে বাজার ভালো করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, বিএসইসি বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বিনিয়োগ শিক্ষা বা যে কোনো শিক্ষাই উপকারী। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে কোনো বিষয়টি আগে বা পরে প্রয়োজন সেটি বিবেচনা করতে হবে। যখন নতুন একটি কোম্পানি তার ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়ে বাজারে অন্তর্ভুক্ত হয় তখন বিনিয়োগকারীরা ভালো দেখেই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন। কিন্ত হঠাৎ করে সেটি খারাপ অবস্থানে চলে যায়। গত পাঁচ বছরে বিনিয়োগকারীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাহলে বিনিয়োগ শিক্ষা কতটা কার্যকর বা এর গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু?

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..