প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিপরীত আচরণ করছে বাজার

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে বর্তমানে মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। গতকাল সূচক ও লেনদেন নেতিবাচক অবস্থানে ছিল। দরপতন হয় ৬৭ শতাংশ বা ২২৩টি কোম্পানির। সবচেয়ে বৃহৎ ব্যাংক খাতের ৯৩ শতাংশ বা ২২ কোম্পানি দরপতনে ছিল। একটির দর বেড়েছে এবং অপরটি অপরিবর্তিত ছিল। ব্যাংক খাতের পতনই মূলত সূচককে বড় ধরনের পতনে ঠেলে দেয়। যার কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ছয় হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে আসে। গত ৩১ আগস্টের পর এটাই সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান। অন্যান্য খাতেও সিংহভাগ কোম্পানি দরপতনে ছিল। বাজার এখন সম্পূর্ণই বিপরীত আচরণ করছে। পর্ষদ সভা কিংবা ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা, প্রান্তিক প্রতিবেদনে মুনাফা করার খবর সত্তে¡ও জুন ক্লোজিং বা ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ের এসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। বরং এসব শেয়ারের দর আরও কমছে, যা পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক আচরণ নয়। এমন আচরণ কোনো শক্তিশালী ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের পরিচয় বহন করে না।

গতকাল মাত্র ২০ শতাংশ কোম্পানির দর ইতিবাচক ছিল। গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ৫০ শতাংশ, ওষুধ এবং বস্ত্র খাতে ৩৯ শতাংশ, জ্বালানি খাতে ৩৩ শতাংশ, প্রকৌশল খাতে ২৬ শতাংশ শেয়ারের দর ইতিবাচক ছিল। টেলিযোগাযোগ খাতের গ্রামীণফোনের দর গতকালও বেড়েছে দশমিক ২৬ শতাংশ  বা এক টাকা ১০ পয়সা। গতকাল ৩৯টি কোম্পানির পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল ব্যাংক খাতে লেনদেন হয় ১১৯ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ২৩ শতাংশ। আগের দিন এ খাতে লেনদেন হয় ১৩১ কোটি টাকা। এ খাতে লেনদেন কমেছে সাড়ে ১১ কোটি টাকা। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ৭৩ কোটি টাকা বা ১৪ শতাংশ। গতকাল এ খাতে লেনদেন কমে ৯ কোটি টাকা। আর্থিক খাতে লেনদেন হয় ৬৮ কোটি টাকা। এ খাতে লেনদেন কমেছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। জ্বালানি খাতে কমেছে এক শতাংশ। তবে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় আট কোটি টাকা। এ খাতের আমরা নেটের সাড়ে ১৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয় এবং দর বেড়েছে পাঁচ টাকা ৬০ পয়সা। কোম্পানিটি দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে স্থান করে নেয়। বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় প্রায় ৪৯ কোটি টাকা। এ খাতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। এ খাতের সাফকো স্পিনিং, শাশা ডেনিম, স্টাইল ক্রাফট, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় চলে আসে। বিবিএস কেব্লস প্রায় ২১ কোটি টাকা, আমরা নেট সাড়ে ১৮ কোটি, লংকাবাংলা ও জিপি ১৮ কোটি, ইফাদ অটোস ১৬ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংক প্রায় ১১ কোটি, রংপুর ফাউন্ড্রি সাড়ে ১০ কোটি, উত্তরা ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।