শেয়ার বিজ ডেস্ক: মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে আজ দেখা গেল এক অবিশ্বাস্য ব্যাটিং তাণ্ডব। আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) ‘নোয়াখালী এক্সপ্রেস’-এর আফগান ওপেনার হাসান ইসাখিল এ ব্যাটিং তাণ্ডব দেখিয়েছেন।
আফগানিস্তানের তারকা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর ছেলে হিসেবে পরিচিত এই তরুণ ব্যাটার রংপুর রাইডার্সের বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিমরোলার চালিয়ে তুলে নিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ৪টি চার ও ১১টি বিশাল ছক্কায় সাজানো তার ৭২ বলে ১০৭ রানের ইনিংসটি বিপিএল ইতিহাসের অন্যতম সেরা পাওয়ার হিটিংয়ের প্রদর্শনী হয়ে থাকবে। ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মোটেও এমন ছিল না। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ইসাখিল প্রথম ৩৫ বলে করেছিলেন মাত্র ২৩ রান। দশম ওভার পর্যন্ত নোয়াখালীর রান ছিল মাত্র ৪৭। কিন্তু এরপরই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন তিনি।
ফিফটি ছুঁতে ৫০ বল নিলেও, পরের ৫০ রান করতে তিনি খরচ করেছেন মাত্র ২০ বল! সব মিলিয়ে ৭০ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ইসাখিল। এটি বিপিএল ইতিহাসের যৌথভাবে সবচেয়ে মন্থরতম সেঞ্চুরির রেকর্ড; ২০১২ সালে ডোয়াইন স্মিথও ৭০ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছিলেন।
ইসাখিলের এই ইনিংসে ছিল ছক্কার মহোৎসব। এক ইনিংসে ১১টি ছক্কা মেরে তিনি এখন কেবল ক্রিস গেইলের পেছনে।
বিপিএলে গেইলের ১৮, ১৪ ও ১২টি ছক্কা মারার রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া টুর্নামেন্টে মাত্র ৩ ম্যাচ খেলেই ১৮টি ছক্কা মেরে ছক্কার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন এই আফগান সেনসেশন। এর আগে তিনি ৯২ রানে আউট হয়ে আক্ষেপে পুড়লেও আজ আর ভুল করেননি।
ইসাখিলের সেঞ্চুরির পথে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন হায়দার আলি। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন ১৩৭ রানের জুটিতে ভর করে ২ উইকেটে ১৭৩ রানের বড় সংগ্রহ পায় নোয়াখালী।
ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে ১২৬ রান তুলে রংপুরের বোলারদের দিশেহারা করে দেন এই জুটি।
প্রথম সাত ম্যাচে ডাগআউটে বসে থাকা ইসাখিল শেষ ৩ ম্যাচেই সুযোগ পেয়ে ২২৪ রান সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে প্রথম ম্যাচে তিনি মাঠে নেমেছিলেন পিতা নবীর সঙ্গে। ওই ম্যাচে ফিফটির দেখা পান ইসাখিল। আর আজ ১৪৭ স্ট্রাইক রেটের ব্যাটিংয়ে তিনি প্রমাণ করলেন কেন তাকে নিয়ে ক্রিকেট মহলে এত আলোচনা।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post