সম্পাদকীয়

বিমানবন্দরের মর্যাদা বাড়াতে ভূমিকা রাখুক তৃতীয় টার্মিনাল

দেশে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। এগুলো হলো ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। তবে তিনটি বিমানবন্দর থাকলেও মূলত ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি। এ বিমানবন্দর দিয়েই আন্তর্জাতিক যাত্রীদের প্রায় ৯০ শতাংশ যাতায়াত করেন। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক বিমানবন্দরগুলোর তুলনায় এটির সক্ষমতা অনেক কম। এমনকি ওইসব বিমানবন্দরে যত দক্ষতার সঙ্গে সেবা দেওয়া হয়, সে অনুপাতে পিছিয়ে আমাদের শাহজালাল। বর্তমানে এখানে দুটি টার্মিনাল রয়েছে। এগুলো বেশ পুরোনো। এখন সেবার মান ও বিমানবন্দরের দক্ষতা বাড়াতে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বিষয়টি ইতিবাচক। টার্মিনালটির নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ হওয়ার পাশাপাশি এটি যেন আমাদের বিমানবন্দরের মর্যাদা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে সেটাই সবার কামনা।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘শাহজালাল বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে চুক্তি সই’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন ও স্যামসাং মিলে গঠিত এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) যৌথভাবে এটি নির্মাণ করবে। এ কাজে ঋণ সহায়তা দেবে জাইকা। টার্মিনালটিতে থাকবে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল বিল্ডিং, রাস্তা, কারপার্কিং, কার্গো কমপ্লেক্স, পার্কিং অ্যাপ্রোনসহ আরও অন্য স্থাপনা। আগামী চার বছরে এটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

তৃতীয় টার্মিনালে যেসব সুযোগ-সুবিধা রাখার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হলে শাহজালাল এশিয়ার অন্যতম ভালো বিমানবন্দরে রূপ নেবে বলেই বিশ্বাস। পাশাপাশি যাত্রী হয়রানি কমবে বলেও প্রত্যাশা। বিমানবন্দরে যাত্রীরা উপযুক্ত সেবা পান না বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমনকি যাত্রীর লাগেজ কেটে জিনিসপত্র বের করে নেওয়ার ঘটনাও অসংখ্যবার গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন যাত্রী তাদের হয়রানির বিষয়গুলো নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। এমন পরিস্থিতি থেকে তারা নিষ্কৃতি চান। এছাড়া যেসব বিদেশি বাংলাদেশ ভ্রমণে আসেন, তারাও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হন। বিশেষ করে ইমিগ্রেশনে নানা ভোগান্তির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক বিনিয়োগের ভূমিকা অনেক। কিন্তু বিমানবন্দরে এসে যদি কেউ এ ধরনের হয়রানির শিকার হন, তাহলে নিশ্চিতভাবেই তারা এখানে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন আধুনিক সেবাসম্পন্ন দক্ষ বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা। তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ সম্পন্ন হলে বিমানবন্দরের সেবার মানে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি এটির মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..