প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিমানবন্দরে রাডার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ: পিপিপি’র বদলে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের প্রস্তাব

 

সোহেল রহমান : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন রাডার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে এক হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্প ব্যয় অত্যধিক হওয়ায় কাজটি পিপিপি’র পরিবর্তে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গত ৪ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদনের জন্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাডার ব্যবস্থা নিরাপত্তার একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি রাডার দীর্ঘদিনের ব্যবহারে পুরোনো হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নিরাপদে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের লক্ষ্যে ‘সাপ্লাই, ইনস্টলেশন অ্যান্ড কমিশনিং অব এ মাল্টি মোড সার্ভিল্যান্স সিস্টেম (রাডার, এডিএস-বি ওয়াইড এরিয়া মাল্টিলেটারেশন) এলং উইথ এটিসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন’ শীর্ষক প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তখন আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অনুযায়ী রাডার স্থাপন ও ১০ বছর রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য খরচ বাবদ মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল সর্বোচ্চ ৭৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরে ব্যয় ৭৬ কোটি টাকা। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পিপিপি’র আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১৫ সালের নভেম্বরে রিকোয়েস্ট ফর কোয়ারি (আরএফকিউ) ও বিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (আরএফপি) ইস্যু করা হয়।  এর বিপরীতে চারটি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে উইংস এভিয়েশন-শান্তা হোল্ডিং কনসোর্টিয়াম ও আন-সলিসিটেড বিডার হিসেবে করিম অ্যাসোসিয়েটস প্রাথমিকভাবে রেসপন্সিভ হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তী সময়ে কারিগরি প্রস্তাবে প্রথমটি নন-রেসপন্সিভ হয়ে যায়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অতিরিক্ত আইটেমসহ ভ্যাট সংযোজনের পর করিম অ্যাসোসিয়েটসের প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ১০ বছরের পিপিপি পার্টনারকে দিতে হবে এক হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা, যা ইতোপূর্বে প্রাক্কলিত ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ব্যয় ‘অত্যধিক’ হওয়ায় প্রকল্পটি পিপিপি’র আওতায় বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সুপারিশ ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এর পরিবর্তে প্রকল্পটি সরকারি অর্থে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছে মন্ত্রণালয়।