দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

বিমানের ওয়্যারহাউসে যাতায়াত করে ‘অননুমোদিত ব্যক্তি’

ব্যবস্থা নিতে বিমানকে কাস্টমসের চিঠি

রহমত রহমান: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো গুদাম রয়েছে। যেখানে আমদানি পণ্য সংরক্ষণ করা হয়। এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের আওতাধীন একটি বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা গুদাম। কাস্টমস আইন ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস বিধিমালা অনুযায়ী, বিমান এ গুদামের কাস্টোডিয়ানের দায়িত্ব পালন করে। এ গুদামে কাস্টমস ও বিমান অনুমোদিত কর্মকর্তা, স্টেকহোল্ডার ছাড়া অননুমোদিত ব্যক্তি প্রবেশের সুযোগ নেই। যদিও সম্প্রতি আমদানি কার্গো ভিলেজে অননুমোদিত ব্যক্তি প্রবেশ বহুলাংশে বেড়ে গেছে। এতে বন্ড গুদামের পণ্য শুল্কায়ন বিলম্বিত ও রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

পাশাপাশি চোরাচালান পণ্য চালানের অবস্থান সম্পর্কে অসৎ আমদানিকারকরা জেনে যাচ্ছে। এছাড়া গুদামের পণ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে চিঠি দিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস। অননুমোদিত ব্যক্তির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে ৫টি প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্প্রতি বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ চিঠি দেয়া হয়েছে। ঢাকা কাস্টম হাউস কমিশনার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন সই করা চিঠিতে বিমানের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের জেনারেল ম্যানেজারের (কার্গো) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কাস্টমস আইন দ্বারা ঘোষিত একটি ওয়্যারহাউস স্টেশন। একই আইন দ্বারা আমদানি করা পণ্যের নিরাপত্তা বিধান, রক্ষণ ও প্রকৃত দাবিদারের কাছে শুল্কায়ন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডকে পাবলিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস কিপারের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। কাস্টমস আইনে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ওয়্যারহাউসে পণ্য ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী এ ওয়্যারহাউসে পণ্য সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ফলে কাস্টোডিয়ানের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের লক্ষ্যে বন্ডেড এলাকার নিরাপত্তা বিধান ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট তথ্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে (ঢাকা কাস্টম হাউস) নিয়মিত অবহিত করা পাবলিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস কিপারের আইনানুগ কর্তব্য।

চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন গোয়েন্দা ও অভিযোগের ভিত্তিতে বলা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের কার্গো শাখা কর্তৃক আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্যের গুদাম ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করা উচিত। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, আমদানি কার্গো ভিলেজে অননুমোদিত ব্যক্তির আসা-যাওয়া অনেকাংশে বেড়ে গেছে। এতে আমদানি পণ্যের কায়িক শুল্কায়ন কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। পাশাপাশি মিথ্যা ঘোষণাকৃত পণ্যের অবস্থান সম্পর্কে অসৎ আমদানিকারক বা তার প্রতিনিধি জেনে যাচ্ছে। এতে রাজস্ব ফাঁকির ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। কিন্তু বিমানবন্দরে আমদানি-রপ্তানি পণ্যচালান, আন্তর্জাতিক যাত্রীর সঙ্গে আনা ব্যাগেজগুলোয় যে কোনো ধরনের পণ্যচালান, যে কোনো ব্যক্তি এবং যে কোনো যানবাহনের পরীক্ষণ ও তল্লাশি কার্যক্রম কেবল যথোপযুক্ত কর্মকর্তা কর্তৃক গৃহীত হতে পারে। একই আইনের ধারা ২ (বি) অনুসারে উল্লিখিত আইন দ্বারা বা আইনের অধীন দায়িত্ব পালনের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কাস্টমস কর্মকর্তা হচ্ছেন যথোপযুক্ত কর্মকর্তা। তাছাড়া আইনের ১৬৩ ধারায় কাস্টমস কর্মকর্তাদের যে কোনো জায়গায় গমনের অধিকার এবং ওয়ারেন্ট ছাড়াই যে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি ও আটক করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

পাবলিক বন্ডেড ওয়্যারহাউসে অননুমোদিত ব্যক্তি বা ব্যক্তি শ্রেণির কাস্টমস সংশ্লিষ্ট কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপরোধে এবং তাদের অননুমোদিত যাতায়াতে বিধিনিষেধসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, কাস্টমস আইন অনুযায়ী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা নিয়মিত কাস্টম হাউসকে অবহিত ও অনুমোদন নেয়া বাঞ্ছনীয়। আমদানি করা পণ্যের সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানে গাফিলতি জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজস্বের জন্য হুমকি। ওয়্যারহাউসের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিধান হচ্ছে কি না, তা পরিবীক্ষণ করা লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ ঢাকা কাস্টম হাউসের ওপর বর্তায়।

চিঠিতে বলা হয়, ওয়্যারহাউসে কাস্টম হাউসে অনুমোদিত শুধু কাস্টমস কর্মকর্তা, ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট সদস্য, ওয়্যারহাউস কিপারের অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রবেশ ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা বাঞ্ছনীয়। এছাড়া বিশেষ কারণে ওয়্যারহাউসে কারও সাময়িক যাতায়াতের অনুমোদন কেবল বিমান ও কাস্টম হাউসের আলোচনাসাপেক্ষে হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ বিষয়টি নিশ্চিত করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের ওপর বর্তায়। ফলে কার্গো শাখার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তির বিমানবন্দরের প্রচলিত সিকিউরিটি পাস দিয়ে ওয়্যারহাউসের গোডাউনে যথেচ্ছা যাতায়াত বন্ডেড ওয়্যারহাউস বিধিমালা ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন আইনের লঙ্গন। একইসঙ্গে কাস্টমস পণ্যের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

ওয়্যারহাউসে অননুমোদিত ব্যক্তির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে ৫টি প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেÑআমদানি কার্গোর প্রবেশদ্বারে ঢাকা কাস্টম হাউসের অনুমোদনে কার্গো নিরাপত্তা ইউনিট দ্বারা নিরাপত্তা জোরদার করা। বিমানবন্দরে প্রচলিত সিকিউরিটি কার্ডের ভিত্তিতে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তির কাস্টমস বন্ডেড গোডাউনে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে ঢাকা কাস্টম হাউস ও বিমানের কার্গো শাখা থেকে ইস্যুকৃত সার্ভিস আইডি কার্ড বা এজেন্ট কার্ডের ভিত্তিতে প্রবেশের ব্যবস্থা করা। প্রয়োজনে ভিজিটর পাশের ব্যবস্থা চালু করে সাময়িক যাতায়াত পদ্ধতি শুরু করা যেতে পারে। বিমানের কার্গো শাখা ও কাস্টম হাউসের ফ্রেইট শাখার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে টহল টিম গঠন করে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং করা যেতে পারে। কার্গো শাখায় ডিজিটাল বায়োমেট্রিক এক্সেল কন্ট্রোল পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। এছাড়া বিমানের বন্ডেড ওয়্যারহাউসের বাইরে এয়ার সাইডে গমনের ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এভিয়েশন সিকিউরিটি তার নিরাপত্তা নীতির আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

এ বিষয়ে এনবিআরের একজন সদস্য শেয়ার বিজকে বলেন, অননুমোদিত ব্যক্তির চলাচল শুধু রাজস্ব ক্ষতি নয়, নিরাপত্তার জন্য হুমকি। বিমানকে কাস্টমসের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..