প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বিমা কোম্পানির শেয়ারে ঝোঁক বিনিয়োগকারীদের

মুনাফা বৃদ্ধি

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে ৩৫টি সাধারণ বিমা কোম্পানি তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ৭০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আর কোম্পানিগুলোর ইপিএস বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্প্রতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, এ বছর দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে সর্বোচ্চ মুনাফা বেড়েছে তালিকাভুক্ত প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের। প্রতিষ্ঠানটির ইপিএস শূন্য দশমিক শূন্য ছয় টাকা থেকে বেড়ে শূন্য দশমিক ৬৪ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ গত আর্থিক বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে এ বছর কোম্পানিটির ইপিএস ৯৬৭ শতাংশ বেড়েছে।
এই তালিকায় পরের স্থানে রয়েছে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স। এই প্রতিষ্ঠানের ইপিএস বেড়েছে ১৪৯ শতাংশ। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৮৭ টাকা। আগের বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ৩৫ টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৫৮ শতাংশ ইপিএস বেড়েছে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের। শূন্য দশমিক ৮৪ টাকা থেকে বেড়ে এবারের ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৩৩ পয়সা।
ইপিএস বৃদ্ধির তালিকায় পরের স্থানে রয়েছে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স। শূন্য দশমিক ৪৪ টাকা থেকে বেড়ে এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ইপিএস হয়েছে শূন্য দশমিক ৬২ টাকা। এছাড়া দ্বিতীয় প্রাপ্তিকে মুনাফা বেড়েছে ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, নিটল ইন্স্যুরেন্স, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতি, অগ্রণী, এশিয়া, রূপালী, পূরবী, জনতা এবং ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের।
এ প্রসঙ্গে ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দীন চৌধুরী শেয়ার বিজকে বলেন, বিমা কোম্পানিগুলোর কমিশন কমে যাওয়ার প্রভাবে মুনাফা বেড়েছে। সে কারণে বিনিয়োগকারীরা এই খাতের শেয়ারে ঝুঁকেছেন। আশা করছি আগামীতে এসব কোম্পানির মুনাফা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এদিকে চলতি বছর ছয় মাসে ইপিএস আগের বছরের একই সময় থেকে কমেছে ৩০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের। ইপিএস সর্বোচ্চ কমেছে নর্দান ইন্স্যুরেন্সের। গত আর্থিক বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই প্রতিষ্ঠানের ইপিএস ছিল এক টাকা ২৮ পয়সা। এ বছর তা কমে হয়েছে এক দশমিক শূন্য তিন টাকা। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের ইপিএস ২৯ শতাংশ কমেছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ ইপিএস কমেছে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের। এক টাকা ৫৯ পয়সা থেকে কমে এবার প্রতিষ্ঠানের ইপিএস হয়েছে এক টাকা ২৪ পয়সা। একইভাবে ইপিএস কমেছে পিপলস ইন্স্যুরেন্স, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ফনিক্স ইন্স্যুরেন্স ও কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স।
অন্যদিকে এসব কোম্পানির মুনাফার খবরে সম্প্রতি বিমা খাতের কোম্পানির শেয়ারে ঝোঁক বেড়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। যার জের ধরে বাড়তে দেখা যাচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। গত সপ্তাহেও এর
ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই পুঁজিবাজারে এসব কোম্পানির আধিপত্য দেখা গেছে। পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মুনাফার খবরের পাশাপাশি এসব শেয়ারের দর বৃদ্ধি আরও একটি কারণ রয়েছে। সেটা হচ্ছে, বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কম। সে কারণে সবাই এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছেন।
বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো বিমা খাতও পুঁজিবাজারের একটি শক্তিশালী খাত। তুলনামূলকভাবে এসব কোম্পানির রিটার্ন প্রদানের হারও ভালো। সে কারণে সব সময় এসব শেয়ারের বিনিয়োগকারীদের চোখ থাকে। আর যখন কোনো কোম্পানির মুনাফার খবর আসে, তখনই এমনিতেই সেই কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়ে যায়।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলেন, বর্তমানে তারা ব্যাংক, বিমা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে থাকতে চাইছেন। তারা জানান, এই খাতগুলোয় তুলনামূলক দুর্বল কোম্পানির সংখ্যা কম। সেই কারণে এসব কোম্পানিতে ঝুঁকিও কম। আর সেই কারণে তারা এসব কোম্পানিতে থাকতে পছন্দ করেন। জানতে চাইলে লুৎফর রহমান নামে একজন বিনিয়োগকারী শেয়ার বিজকে বলেন, বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ার এখন খুব কম দরে কেনাবেচা হচ্ছে। সে কারণে আমার মতো অনেকেই এই শেয়ারে ঝুঁকছেন।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..