পাঠকের চিঠি

বিমা খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা

পাঠকের চিঠি

উন্নত দেশগুলোয় বিমা খাতকে খুবই গুরুত্ব ও মর্যাদা দেওয়া হয়। ওইসব দেশের নাগরিকরা প্রায় প্রতিটি সম্পদের ঝুঁকিই বিমা করে থাকে। কারণ এই খাত গড়ে উঠেছে বিপদের সময় পরম বন্ধু হয়ে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আমাদের দেশে বিমা খাতটি খুব বেশি এগোতে পারেনি। জিডিপিতে এর অবদান খুবই নগণ্য। জনগণের নেতিবাচক মনোভাব, বিশ্বাস-আস্থার অভাব, কিছু বিমা কোম্পানির প্রতারণার ফলে এরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অদক্ষতার কারণে বিমা খাতের সুনামহানি হচ্ছে। এগুলো এই খাতটির বিকাশ লাভ করার ক্ষেত্রে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। আমাদের অবশ্যই এ সমস্যাগুলো সমাধানে সচেতন হতে হবে এবং এ সমস্যাগুলো যেন কেটে যায় সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংকটকালে বিমাগ্রহীতাকে বিমা ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করে থাকে। ধরা যাক, একজন ব্যক্তি তার সব সঞ্চয় দিয়ে একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করলেন এবং সম্পূর্ণ ভবনটি বিমা পলিসির আওতায় আনলেন। কোনো কারণে দুর্ঘটনাবশত তার ভবনটিতে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষতি হলো। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি কিন্তু নিঃস্ব হয়ে যাবেন না। বিমা পলিসি থাকায় তিনি ক্ষতিপূরণ পাবেন এবং এই ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে আবার বিনিয়োগ করতে পারবেন। আবার দেখা যাক, একজন ব্যক্তি তার সীমিত সঞ্চয় দিয়ে একটি সিএনজিচালিত থ্রি হুইলার কিনলেন এবং এটির বিমা পলিসি করে রাখলেন। দুর্ঘটনাবশত তার গাড়ির ক্ষতি হলে একমাত্র বিমা পলিসি থাকায় তিনি ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ ধরনের দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যায়, বিমা খাত আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্য বহন করে।

বিমা খাতের বিকাশের জন্য প্রথমে সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দূর করতে হবে। এটার জন্য অবশ্যই বিমা কোম্পানিগুলোকে আরও সৎ ও দায়িত্ববোধ অর্জন করতে হবে। যেসব কোম্পানিগুলো গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে তাদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। বিমা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অদক্ষতা এই খাতের চরম প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। তাদের বিমা বিষয়ে জ্ঞানের অভাবে জনগণ সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিমার গুরুত্ব বুঝতে অক্ষম হচ্ছেন। তাই অবশ্যই এটা সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। প্রয়োজন হলে বিদেশের খ্যাতনামা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে হবে। তারা যদি দক্ষ হতে পারেন তাহলে জনগণ অবশ্যই সঠিক তথ্য পেয়ে বিমার গুরুত্ব বুঝতে পেরে বিমা করার জন্য তারা নিজেরাই উদ্বুদ্ধ হবেন। আর এটা যদি হয় তাহলে আমাদের দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিমা খাতের প্রসারের জন্য অবশ্যই গণমাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করতে হবে। বিমার সুবিধা এবং বিপদের সময় এটা কীভাবে কাজে আসে এগুলো নিয়ে ব্যাপক প্রচার করতে হবে। টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র, বিলবোর্ড প্রভৃতির মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করতে হবে। বিমা খাতে পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। আমাদের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য বিমার প্রসার ঘটাতে হবে এবং এ খাতকে সম্মানজনক পর্যায়ে নিতে হবে।

আরিফুর রহমান সুমন

সহকারী ব্যবস্থাপক                                                                           

সাধারণ বীমা করপোরেশন

সাভার, ঢাকা

সর্বশেষ..