দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বিমা খাতে উল্লম্ফনে ঘুরে দাঁড়াল সূচক

ডিএসই সাপ্তাহিক চিত্র

শেখ আবু তালেব: শেয়ারদরে মিশ্র প্রবণতার মধ্যে দিয়ে সপ্তাহ পার করল দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। টেলিকম খাতে নতুন আইপিওর আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্রয় চাপে কমে যাচ্ছিল শেয়ারদর ও সূচক। কিন্তু হঠাৎ করেই সক্রিয় হয়ে উঠতে দেখা যায় বিমা খাত। এ খাতের শেয়ারদর ও লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘুরে দাঁড়ায় সূচক। ফলে বড় ধরনের পতন থেকে রক্ষা পায় ডিএসইর সব সূচক।

ডিএসইর সাপ্তাহিক লেনদেন চিত্র ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ফের বেড়েছে বিমা খাতে। ফলে সপ্তাহ শেষে ডিএসইর শীর্ষ দর বৃদ্ধির ১০টিই বিমা খাতের। এর মধ্যে সাধারণ বিমাই দাপট দেখিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগের সপ্তাহে মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল বেশি। গত সপ্তাহে খাতটিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা যায়নি। অপরদিকে টেলিকম খাতের রবি আজিয়াটার আইপিও আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আইপিওতে অংশগ্রহণে শেয়ার বিক্রি শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা। দুই চাপে শেয়ার ও ইউনিট দর কমতে থাকে ডিএসইর তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের। পতন হতে থাকে ডিএসইর সব সূচকের।

পাঁচ কার্য দিবসের প্রথম দুই দিবসেই বড় পতন হয় ডিএসইর সব সূচকে। তৃতীয় কার্যদিবসে ঘুড়ে দাঁড়াতে শুরু করে। এর পেছনে অবদান রাখে বিমা খাত। বিশেষ করে সাধারণ বিমার শেয়ারদরে উল্লম্ফন দেখা দেয়। এতে লেনদেন বৃদ্ধি পায়। ফলে শেষ তিন দিবসই ইতিবাচক ধারায় লেনদেন ও সূচক শেষ হয়। কিন্তু দুই কার্যদিবসে পতন হওয়া সূচকের পরিমাণ আগের অবস্থানে ফেরেনি। এতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহ শেষে ১০ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট হারায় আগের চেয়ে। অপর সূচক ডিএস৩০ ও ডিএসইএস হারায় যথাক্রমে ১১ দশমিক ৬৪ ও ১০ পয়েন্ট।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমা খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধি না পেলে লেনদেন ও সূচকের অবনতি আরও বেশি হতো। ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৬৪টি কোম্পানি ও ফান্ড লেনেদেনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বৃদ্ধি পায় ১৪৪টির, কমে ১৪০টির, দর অপরিবর্তিত থাকে ৭৭টির ও লেনদেন হয়নি তিনটির। অপরদিকে গত সপ্তাহে লেনদেন কমে আগের চেয়ে ১৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ গেইনারে ছিল সাধারণ বিমা খাতের বিনিয়োগকারীরা। এই সময়ে তারা আগের চেয়ে ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ মুনাফা দেখতে পায় খাতটিতে। এছাড়া বিনিয়োগকারীরা মুনাফা দেখতে পান মিউচুয়াল ফান্ডে পাঁচ দশমিক ৩০ শতাংশ, জীবন বিমা খাতে দুই দশমিক ৬৩ শতাংশ।

অপরদিকে সর্বোচ্চ লোকসান গুনতে হয় প্রকৌশল খাতে চার দশমিক ২৭ শতাংশ। এছাড়া লোকসান গুনতে হয় এনবিএফই খাতে এক দশমিক ১৬ শতাংশ, টেলিকমে দুই দশমিক ৩৯ শতাংশ, ওষুধ খাতে দুই দশমিক শূন্য চার শতাংশ, জ্বালানিতে এক দশমিক ৪৮ শতাংশ ও খাদ্য খাতে শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ।

তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৩৩ দশমিক তিন শতাংশ অবদান রেখেছে সাধারণ বিমা খাত। এরপরই মিউচুয়াল ফান্ড ১৪ শতাংশ, ব্যাংক ছয় দশমিক ছয় শতাংশ, এনবিএফআই তিন দশমিক ছয় শতাংশ, জীবন বিমা এক দশমিক আট শতাংশ, ওষুধ খাত ১০ দশমিক আট শতাংশ, জ্বালানি তিন দশমিক আট শতাংশ, প্রকৌশল খাত ছয় দশমিক আট শতাংশ, খাদ্য এক দশমিক ৯ শতাংশ ও বস্ত্র খাত তিন দশমিক তিন শতাংশ অবদান রাখে মোট লেনদেনে।

একক কোম্পানি হিসেবে শেয়ারদর বৃদ্ধির শীর্ষে স্থান পায় প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, নিটল ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স ও কর্র্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স।

অপরদিকে একক কোম্পানি হিসেবে শেয়ারদরে লোকসান দেখা গেছে সামিট এলায়েন্স পোর্টের ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া বারাকা পাওয়ার, সাফকো স্পিনিংস মিলস, প্যাসিফিক ডেনিমস, কাট্টলি টেক্সটাইল, স্টাইল ক্রাফট, এসকোয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, দ্য পেনিনসুলা চিটাগং, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলস ও বঙ্গস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..