Print Date & Time : 11 May 2021 Tuesday 12:57 pm

বিরূপ সময়ে বিহ্বল হয়ে পড়া চলবে না

প্রকাশ: March 1, 2021 সময়- 01:34 am

শিশুদের জন্য পাঁচটি সুযোগ যা আমাদের এখন অবশ্যই লুফে নিতে হবে। আমরা প্রতিটি শিশুর জন্য কভিড-পরবর্তী সময়ে ভালো একটি বিশ্বের স্বপ্ন দেখতে পারি। কভিড-১৯ হচ্ছে আমাদের জীবদ্দশায় দেখা প্রথম সত্যিকারের বৈশ্বিক সংকট। আমরা যে যেখানেই বসবাস করি না কেন, মহামারিটি প্রতিটি ব্যক্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, শিশুদের সবচেয়ে বেশি। লাখ লাখ মানুষ কেবল দারিদ্র্যের মধ্যে জন্মগ্রহণ করায় বা তাদের জাতি, ধর্ম বা বর্ণের কারণে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা পাচ্ছে না। কভিড-১৯ এই বৈষম্যের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং মহামারির সামাজিক, অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব আগামী বছরগুলোতে ফিরে ফিরে আসবে। তবে এই চ্যালেঞ্জগুলোর কারণে আতঙ্কিত বা বিহ্বল হয়ে পড়ার সময় এটা নয়। আমরা যখন ইউনিসেফের ৭৫তম বার্ষিকী শুরু করছি, তখন এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আরেকটি ঐতিহাসিক সংকটের মধ্যে এ সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্বে শিশুরা যে পরিমাণ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল তা দেখে সহজেই দিশাহারা হওয়ার মতো অবস্থা ছিল। তবে আমরা পুনরায় সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমরা বিশ্বজুড়ে নতুন স্বাস্থ্য ও কল্যাণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি। আমরা গুটিবসন্ত (স্মল পক্স) এবং হিংস্র পোলিওকে পরাজিত করেছি। আমরা জাতিসংঘ গড়ে তুলেছি।

ইতিহাস আরও একবার আমাদের ডাকছে। পূর্ববর্তী বড় বড় বৈশ্বিক সংকটে, বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে মহামারি পর্যন্তÑচুক্তি ও সমঝোতাবিষয়ক আলোচনার জন্য নেতারা একত্র হয়েছিলেন। শান্তি পুনরুদ্ধার, পুনস্থাপন ও পুনর্র্নির্মাণের নতুন উপায় গড়ে তোলা এবং সহযোগিতার বিষয়ে তারা সময়ে সময়ে সম্মত হয়েছেন।

আমাদের শিশুদের সুরক্ষার জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার পেছনে বিশ্বকে একত্র করা প্রয়োজন; যেখানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বিনিয়োগ এবং আরও স্থিতিস্থাপক ব্যবস্থা ও সেবা কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদের প্রজন্মের একটি প্রতিশ্রুতি থাকবে। বাজেট স্বল্পতা ও অর্থনৈতিক মন্দায় যাতে শিশুদের কোনো ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও থাকবে।

বিশ্বের শিশুরা যে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে সে বিষয়ে আমাদের স্বচ্ছ দৃষ্টি রাখার পাশাপাশি আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উচ্চাকাক্সক্ষী ও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার মাধ্যমে অতীতের ওপর ভিত্তি করে অংশীদারিত্ব ও সংহতিকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। এর মানে এই নয় যে, বিষয়গুলো আগে যেমন ছিল সে অবস্থায় ফিরে যাওয়া। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শিশুর ক্ষেত্রে শুরু করার জন্য ‘স্বাভাবিক’ অবস্থা কখনোই যথেষ্ট ছিল না।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে