আজকের পত্রিকা দিনের খবর প্রথম পাতা বাণিজ্য সংবাদ সর্বশেষ সংবাদ

বিলম্ব ভ্যাট-ট্যাক্স রিটার্ন জমায় সময় বৃদ্ধির ক্ষমতা পেল এনবিআর

নিজস্ব প্রতিবেদক: আপৎকালীন সময়ে সুদ ও জরিমানা ছাড়াই ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধির ক্ষমতা পেল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিশেষ করে মহামারি, দুযোর্গ, দৈব-দুর্বিপাক বা যুদ্ধের সময় এ সময় বৃদ্ধি, সুদ ও জরিমানা মওকুফ করতে পারবে। বুধবার (২০ মে) নতুন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ৬৪ ধারা সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ অধ্যাদেশ জারি করে।

## বিলম্ব ভ্যাট রিটার্ন জমায় ‘আপৎকালীন’ সুদ ও জরিমানা মওকুফ

## মহামারি, দূযোর্গ, যুদ্ধ, দূর্বিপাকে আয়কর রিটার্ন সময় বৃদ্ধি করতে পারবে

এনবিআর কর্মকর্তা বলছেন, করোনার কারণে অতীতে যারা মাসিক রিটার্ন দিতে পারেননি বা আগামীতে পারবেন না, এ অধ্যাদেশটির বলে তাদেরকে এই সুযোগ দিতে পারবে এনবিআর। পূর্বে প্রতিমাসের ১৫ তারিখের মধ্যে কেউ ভ্যাট রিটার্ন জমা না দিলে এই জরিমানা ও সুদ বাধ্যতামূলক ছিল। এবং কোন অবস্থাতে তা মওকুফের পথ উন্মুক্ত ছিল না। করোনার সময়ে অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির জন্য এটা বড় ধরনের স্বস্তি।

অধ্যাদেশে বলা হয়, ভ্যাট আইনের অন্যান্য বিধানে যাই থাকুক না কেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি ও দৈব-দুর্বিপাক বা যুদ্ধের কারণে জনস্বার্থে এমন আপৎকালীন সুদ ও জরিমানা আদায় হতে অব্যাহতি প্রদানপূর্বক দাখিলপত্র পেশের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারবে এনবিআর। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭ নং আইন) এর ধারা ৬৪ এর উপ-ধারা (১) এরপর নিম্নরূপ উপ-ধারা (১ক) ও (১খ) সন্নিবেশিত হবে।

আরো বলা হয়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭ নং আইন) এর অধিকতর সংশোধন করা সমীচীন ও প্রয়োজন। যেহেতু জাতীয় সংসদের অধিবেশন নেই। রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে। সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ সংশোধন করেছেন। এই অধ্যাদেশটি ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এই অধ্যাদেশটি মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২০ নামে অভিহিত হবে।

সূত্রমতে, দেশে ৮ মার্চ করোনা রোগী সনাক্ত হয়। ২৬ মার্চ থেকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। লকডাউনের কারণে প্রায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান সময়মতো ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারেনি। আইন অনুযায়ী, পূর্বে প্রতিমাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হয়। না হয় ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়। দিতে হয় প্রতিদিনের জন্য ২ শতাংশ হারে সুদ। জরিমানা থেকে বাঁচতে করোনা মহামারিতে জরিমানা ছাড়াই ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বৃদ্ধির অনুরোধ জানান ব্যবসায়ীরা। তবে আইন সংশোধন ছাড়া সময় বৃদ্ধি, জরিমানা ও সুদ মওকুফের সুযোগ নেই।

৮ মে বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। বৈঠকে এ আইন সংশোধনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

সরকারের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম গতিশীল রাখতে এনবিআর এ দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে করদাতাদের মাসিক ভ্যাট দাখিলপত্র দাখিলের সুবিধার্থে গত ১২-১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে সকল ভ্যাট সার্কেল অফিস সীমিত পরিসরে খোলা রেখেছিল। এরপরেও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে দেশের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যথাসময়ে রিটার্ন দাখিল করতে পারেনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এফবিসিসিআইসহ আরও কিছু সংগঠন জরিমানা ছাড়া ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। সামগ্রিক বিবেচনায় জনস্বার্থে এ দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা বর্ধিত করা প্রয়োজন।

‘রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসনকল্পে এনবিআর সময়ে সময়ে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-তে সময় বৃদ্ধির কোনো সুযোগ না থাকায় এপ্রিল থেকে কার্যকারিতা দিয়ে মূল্য সংযোজন কর সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ৬৪ এর উপ-ধারা (২) এর উপ-ধারা সংযোজন করা হয়েছে।’

অপরদিকে, একইভাবে মহামারি, দুযোর্গ, দৈব-দুর্বিপাক বা যুদ্ধের সময় আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বৃদ্ধির জন্য আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর সংশোধন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) আয়কর আইন, ১৯৮৪ সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ অধ্যাদেশ জারি করে।

অধ্যাদেশে বলা হয়, এ অধ্যাদেশ আয়কর (সংশোধিত) অধ্যাদেশ, ২০২০ নামে অভিহিত হবে। এ অধ্যাদেশ ২৫ মার্চ থেকে কার‌্যকর হবে। অধ্যাদেশ আয়কর আইন, ১৯৮৪ এর ১৮৪এফ (এক্সএক্সএক্সভিআই) এর নিম্নরূপ নূতন সেকশন ১৮৪জি সন্নিবেশিত হবে।

যাতে বলা হয়, দুযোর্গ, মহামারি, দৈব-দুর্বিপাক বা যুদ্ধের সময়ে এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী সময় বৃদ্ধি করতে পারবে এনবিআর। ৩১ মার্চ ও ১৫ মে এর মধ্যে কিছু আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ছিল। এছাড়া আপীল, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট এর কিছু টাইম লিমিটেশন আছে, যা এনবিআর এ সেকশনের মাধ্যমে সময় বৃদ্ধি করতে পারবে।

###

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..