সম্পাদকীয়

বিশেষায়িত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যবস্থা নিন

ব্যাংক খাতে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। অথচ সামান্য টাকার জন্য কৃষকদের ভিটে-মাটি ছাড়া করা হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) কোটি কোটি টাকা বছরের পর বছর অনাদায়ী। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ৩০ জুন সরকারি খাতের বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বিকেবির মূলধন ঘাটতি ছিল ১০ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা ও রাকাবের ঘাটতি ১ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘খেলাপির ফাঁদে আটকা কৃষি ব্যাংক ও রাকাব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের দুর্বলতাই স্পষ্ট হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বিকেবির বিতরণকৃত ঋণের মধ্যে খেলাপি ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ। আর রাকাবের খেলাপি মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩১ শতাংশ।

আমরা মনে করি, প্রচলিত নিয়ম-কানুন ও বিধিবিধান মেনে এবং ব্যাংকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এসব ঋণ বিতরণ করা হলে এত বেশি ঋণখেলাপি হয়ে যেত না। অথবা ঋণ আদায়ে উদাসীনতা রয়েছে। কোনো ধরনের যোগসাজশের বিষয়ও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ যা-ই হোক না কেন, ব্যাংক ও সংশ্লিষ্টরা এর দায় এড়াতে পারে না।

ব্যাংকের কাজই হচ্ছে আমানত সংগ্রহের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ ঋণ হিসেবে বিতরণ করে, তা থেকে মুনাফা করা। কর্মকর্তারা দায়িত্বশীল হলে ঋণ কোনোভাবেই কুঋণে পরিণত হওয়ার কথা নয়। এমন হলে ব্যাংক খাতের ওপর সাধারণ মানুষের বিশেষ করে আমানতকারীদের আস্থা কমে যাওয়াই স্বাভাবিক।

এক-দুই লাখ টাকা ঋণ আদায়ে কৃষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, অথচ কোটি কোটি টাকা দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ীÑএটি ভালো দৃষ্টান্ত নয়। মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েও বিভিন্ন দুর্যোগের শিকার হয়ে কৃষকরা ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না। একবার ঋণ পরিশোধ না করলে তারা আর ঋণ নেওয়ার সুযোগ পান না। ঋণগুলো অনেক পুরোনো। খেলাপিও হয়েছে অনেক আগেÑএমন বক্তব্য প্রমাণ করে খেলাপিদের সঙ্গে যথানিয়মে যোগাযোগ রক্ষা করা হয় না। অবস্থার উত্তরণে তদারকি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। চিহ্নিত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। বারবার পুনঃতফসিল করে বারবার খেলাপি হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ এবং অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে একদিকে ব্যাংকের মৌলভিত্তি দুর্বল হবে, অন্যদিকে আমানতকারীরাও তাদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়বেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতেই সাধারণত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি। এ খেলাপি কমাতে আশু পদক্ষেপ কাম্য।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..