দিনের খবর প্রচ্ছদ

বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিল আবেদন আরও ৯০ দিন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল এবং এককালীন এক্সিটের আবেদন করতে আরও ৯০ দিন সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া এই সুবিধার আওতায় পুনঃতফসিলকৃত ঋণগ্রহীতার অনুকূলে নতুন করে ঋণও দিতে পারবে ব্যাংকগুলো।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়েছে।

নতুন করে জারি করা ওই নির্দেশনায় বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন কর্তৃক গত ৩ নভেম্বর প্রদত্ত রায়ের আলোকে বিআরপিডির গত মে মাসে জারি করা সার্কুলারের আওতায় ঋণগ্রহীতা কর্তৃক আবেদন করার জন্য সার্কুলার লেটার জারির তারিখ থেকে, অর্থাৎ গতকাল থেকে আরও ৯০ দিন সময় বাড়িয়ে দেওয়া হলো।

এছাড়া বিআরপিডির গত মে মাসের সার্কুলারের আওতায় পুনঃতফসিল পরবর্তীতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ পুনঃতফসিল-সংক্রান্ত গত ২৩ সেপ্টেম্বর জারি করা সার্কুলারের নির্দেশনা পরিপালন সাপেক্ষে নতুন করে ঋণ দিতে পারবে বলেও গতকালের সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।

গত ১৬ মে সহজ শর্তে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সুবিধা প্রদান করে একটি সার্কুলার জারি করে বিআরপিডি। ওই সার্কুলারের বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে দায়ের করা এক রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সার্কুলারের কার্যক্রম একরকম থমকে ছিল। মামলা অনিষ্পন্ন থাকা অবস্থায় একবার পুনঃতফসিল ও এক্সিট সুবিধা নেওয়ার আবেদনের সময়ও বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২০ অক্টোবরের পর থেকে আবেদন নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তবে আবেদনের বিষয়ে ব্যাংকের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ১৯ নভেম্বর অথবা মামলা নিষ্পত্তির তারিখ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।

গত ৩ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে বিআরপিডির জারি করা ওই সার্কুলারের বৈধতা প্রদান করে রায় দেওয়ায় সার্কুলারটির কিছু সুবিধা বাড়িয়ে গতকাল সার্কুলার লেটারটি জারি করে বিআরপিডি। 

নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়, গত মে মাসে জারি করা বিআরপিডির সার্কুলারের ১(গ) ক্রমিকে বর্ণিত বিশেষ নিরীক্ষা ছাড়াই বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের ঋণগ্রহীতাদের অনুকূলে ওই সার্কুলারের সুবিধা দেওয়া যাবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে পাওয়া পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট-সংক্রান্ত আবেদন-সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদন দিতে হবে। ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সার্কুলার লেটার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা খেলাপি ঋণ ন্যূনতম দুই শতাংশ সুদে পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সুবিধা দিয়ে গত মে মাসে সার্কুলার জারি করে বিআরপিডি। ওই সুবিধার আওতায় পুনঃতফসিলকৃত ঋণের সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে আরোপের নির্দেশনা রয়েছে।

গত ১৬ মে জারি করা সার্কুলারের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে অনারোপিত সুদের পুরোটাই এবং ইন্টারেস্ট সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে রক্ষিত সুদ মাফ করতে পারবে ব্যাংক। মওকুফকৃত সুদ আলাদা ব্লকড অ্যাকাউন্টে থাকবে। পুনঃতফসিলের শর্ত অনুযায়ী সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধের পর ব্লকড  অ্যাকাউন্টে থাকা সুদ চূড়ান্ত মওকুফ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ট্রেডিং খাত (গম, খাদ্যদ্রব্য, ভোজ্যতেল ও রিফাইনারি), জাহাজশিল্প (শিপব্রেকিং ও শিপবিল্ডিং) এবং লৌহ ও ইস্পাতশিল্পে যেখানে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে, সেসব খাত বা উপখাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকের অকৃষি খাতের আমদানি-রফতানিতে সম্পৃক্ত শিল্পঋণও পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট সুবিধার আওতায় রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..